দেশব্যাপী জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটি গঠনের উদ্যোগ

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০১৩, ২২:০০
হেফাজতে ইসলামের বাংলাদেশকে তালেবানি রাষ্ট্র বানানোর প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করতে দেশব্যাপী গড়ে তোলা হচ্ছে জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটি। এ লক্ষ্যে সারাদেশে তৃণমূল পর্যায়ে জঙ্গি ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে গতকাল হরতাল পালনকারী প্রগতিশীল ২৩ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। হেফাজতে ইসলামের ঢাকামুখী লংমার্চ প্রতিহত ও জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে হরতাল শেষে গতকাল নতুন কর্মসূচি দিয়েছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিসহ ২৩টি প্রগতিশীল সামাজিক-সাংস্কৃতিক পেশাজীবী সংগঠন। গতকাল শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র-টিএসসি মিলনায়তনে হরতাল-পরবর্তী এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রায় মাসব্যাপী এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসিরউদ্দিন ইউসুফ। তিনি বলেন, যখন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশকে একটি তালেবানি, জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করার চক্রান্ত করে চলেছে তখন দেশের মুক্তবুদ্ধির মানুষরা চুপ করে বসে থাকতে পারে না। তাদের প্রতিহত করাই জয়ের একমাত্র পথ। সম্মেলনে জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ মঞ্চের আগামী এক মাসের কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে : আজ ৭ এপ্রিল থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত জেলা, উপজেলা, নগর, মহানগর, থানা, ওয়ার্ড, ইউনিয়নে জঙ্গি ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটি গঠনের আহ্বান জানানো এবং ১১ এপ্রিল ঢাকায় আন্দোলনরত শতাধিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের মতবিনিময় সভা এবং কেন্দ্রীয় ও ঢাকা জেলা জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হবে। এ কমিটির পক্ষ থেকে সারাদেশে আগামী পহেলা বৈশাখ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আবাহনের মধ্য দিয়ে পালনের অনুরোধ জানানো হয় এবং আগামী ৩ মে ঢাকায় জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটির মহাসম্মেলন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেন তিনি। সম্মেলনে এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর এমপি, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, অধ্যাপক মুনতাসির মামুন, কবি মুহাম্মদ সামাদ, জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ, আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহকাম উল্লাহ, গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য মানজার চৌধুরী সুইট প্রমুখ। এ সময় নাসির উদ্দিন ইউসুফ হরতাল সফল করায় দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এ স্বতঃস্ফূর্ত, হরতাল একটি মাইলফলক। হেফাজতে ইসলাম গণজাগরণ মঞ্চ এবং প্রগতিশীল সংগঠনের হরতালকারীদের ‘নাস্তিক’ আখ্যা দিয়েছে। হরতালের সমর্থন দিয়ে দেশবাসী তাদের জবাব দিয়েছে। সেইসঙ্গে হেফাজতে ইসলামের লংমার্চ ব্যর্থ হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের অস্তিত্বকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। জাতির এই ক্রান্তিকালে, দুঃসময়ে সারাদেশের মুক্তবুদ্ধির মানুষ একাত্মতা প্রকাশ করেছে হরতালে। হরতাল ব্যাপকভাবে সফল করার জন্য শ্রমিক-পেশাজীবী-ছাত্র-বুদ্ধিজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনের জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’ তিনি বলেন, ‘হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবি পূরণ করা হলে এ জাতি মৃত জাতিতে পরিণত হবে। এর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তিকে নিয়ে আমরা বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের ডাক দিচ্ছি।’ এ সময় উপস্থিত ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘শনিবার সকালে রাজধানীর মহাখালীতে হেফাজতের মিছিল থেকে আমাদের হত্যার উদ্দেশ্যে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সমাবেশে হামলা ও ভাংচুর করা হয়। আমাদের তরুণ কর্মীরা মানবঢাল বানিয়ে এর প্রতিরোধ না করলে আমাকে ও মুনতাসীর মামুনকে তারা মেরে ফেলত। তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের ২০ কর্মী আহত হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘হেফাজতে ইসলাম ও জামায়াতে ইসলামের মওদুদীর ইসলাম আমরা চাই না। আমাদের ইসলাম শান্তির ইসলাম, মানবতার ইসলাম।’ তিনি বলেন, ‘হেফাজতে ইসলাম তাদের লংমার্চে মাইক ব্যবহার না করাসহ সরকারের কাছে যেসব শর্ত মানার কথা বলেছিল তার কোনোটাই তারা মানেনি। তারা প্রতারণা করেছে। তাদের ১৩ দফা মানা হলে এ দেশ তালেবানি রাষ্ট্রে পরিণত হবে।’