সংবিধান প্রণেতা ও দেশের প্রখ্যাত আইনজ্ঞ ড. কামাল হোসেন বলেছেন, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন থাকলে আর হরতালের প্রয়োজন হয় না। দেশে কার্যকর গণতন্ত্র, কার্যকর সংসদ ও আইনের শাসনের বিপরীতে সহিংস হরতাল কেউ চায় না। হত্যা, অগ্নিসংযোগের মত ধ্বংসাত্মক কাজের প্রতিকারে আইন আছে। এসব আইনের সঠিক প্রয়োগ হলে হরতাল বন্ধে আইনের প্রয়োজন হয় না। শনিবার রাজধানীর বসুন্ধরা সিটিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র আয়োজিত ‘আইন করে হরতাল বন্ধ করা উচিত’ প্রসঙ্গে ছায়া সংসদ ‘স্টুডেন্ট পার্লামেন্ট’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। তিনি আরও বলেন, সংসদে নিরঙ্কুুস সংখ্যাগরিষ্ঠতা গণতন্ত্রের জন্য কল্যাণকর নাও হতে পারে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জনগণের আছে এবং রাজনীতিবিদদেরও থাকা উচিত। সরকার ও বিরোধী দলের ঐকমত্যে আসার উপর গুরুত্বারোপ করে ড. কামাল হোসেন বলেন, গণতান্ত্রিক মানসিকতা ও সমঝোতার মাধ্যমেই গণতান্ত্রিক চর্চার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সকলেরই জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত। ঐকমত্যের ভিত্তিতে দেশপ্রেমকে কেন্দ্র করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় স্বপ্নের উজ্জ্বল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
ড. কামাল বলেন, হরতাল গণতান্ত্রিক অধিকার। জনগণের অধিকার রক্ষায় হরতাল পালিত হয়। বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দলই হরতালের এই অধিকারটি প্রয়োগ করে আসছে। ষাটের দশক থেকে অহিংস হরতাল পালিত হলেও সম্প্রতি হরতাল সহিংস আকার ধারণ করেছে। এর কারণ কি? মনে রাখতে হবে সরকার ব্যর্থ হলে জনগণও ব্যর্থ হয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে দুর্নীতি করলে তার কোন মূল্য থাকে না। গণজাগরণ মঞ্চকে সব বিষয়ে সুবিচার চাইতে হবে। মানুষকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। বাস ভর্তি করে মানুষ এনে জনসমাবেশ করে জনমত তৈরি করা যায় না।
মক পার্লামেন্টে সরকারি দল আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশকে পরাজিত করে বিরোধী দল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিজয়ী হয়। এছাড়া ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশনের মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান খান, ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির পরিচালক কবির হোসেন শিশির উপস্থিত ছিলেন।
