গতকাল সোমবার বাংলাদেশের আকাশে রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আজ মঙ্গলবার শুরু হলো মুসলমানদের সিয়াম সাধনার মাস পবিত্র রমজান। ফলে ১ জুন শনিবার দিবাগত রাতে পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত হবে। যদিও রমজানের শেষ দশ দিনের যে কোনো বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদর হতে পারে।
দেশের সবগুলো জেলা থেকে চাঁদ দেখার খবর পাওয়ার পর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে আজ থেকে রোজা পালনের ঘোষণা দেয়। সভাপতিত্ব করেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ৫৪টি জেলায় রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ঘোষিত সেহরি ও ইফতারের সূচি অনুসারে ঢাকায় প্রথম রোজার সেহরির শেষ সময় রাত ৩টা ৫২ মিনিটে আর আজ প্রথম দিন ইফতার হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩৪ মিনিটে। এদিকে রমজান মাসে খতম তারাবি পড়ার সময় দেশের সব মসজিদে একই পদ্ধতি অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, রমজান মাসে দেশের প্রায় সব মসজিদে খতম তারাবিতে পবিত্র কোরানের নির্দিষ্ট পরিমাণ পারা তেলাওয়াত করার রেওয়াজ চালু আছে। তবে কোনো কোনো মসজিদে এর ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। এতে করে কর্মজীবী যারা বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন তাদের কোরান খতমের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সম্ভব হয় না। এই অবস্থায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে একটি অতৃপ্তি ও মানসিক চাপ অনুভূত হয়। কুরআন খতমের পূর্ণ সওয়াব থেকেও তারা বঞ্চিত হন। এ সমস্যা নিরসনে রমজানের প্রথম ৬ দিনে দেড় পারা করে ৯ পারা এবং বাকি ২১ দিনে ১ পারা করে ২১ পারা তেলাওয়াত করলে ২৭ রমজান রাতে অর্থাত্ পবিত্র লাইলাতুল কদরে কুরআন খতম করা সম্ভব। এর আগে বিষয়টি নিয়ে দেশবরেণ্য ওলামা-মাশায়েখ ও খতিব-ইমামদের সঙ্গে আলোচনা হলে তারাও এ পদ্ধতিতে খতম তারাবিহ্ পড়ার পক্ষে অভিমত দিয়েছিলেন এবং সে মোতাবেক অধিকাংশ মসজিদে এ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।
