রাজধানীর মহাখালীতে হরতালের সমর্থনে আয়োজিত সমাবেশে হামলা চালিয়েছে হেফাজতে ইসলামের লোকজন। এতে পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মহাখালী আমতলীতে হরতালের সমর্থনে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নির্বাহী সভাপতি শাহরিয়ার কবীর ও মুনতাসীর মামুনের উপস্থিতিতে সমাবেশ চলছিল। এ সময় তারা এই হামলা চালায়। তারা সমাবেশের চেয়ার-টেবিল ভাঙে এবং ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে।
এদিকে হামলার ব্যাপারে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নির্বাহী সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, আমিই ছিলাম হামলাকারীদের টার্গেট। হামলাকারীরা আমাকে দেখামাত্র ইট-পাটকেল ছুঁড়ে মারে। হামলার ধরনে দেখে বুঝেছি, তাদের এই হামলা একদমই পূর্বপরিকল্পিত। হামলাকারীরা আমাকে দেখামাত্র ইট-পাটকেল, পানির বোতল ছুঁড়ে মারে। হামলার সময় পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করছিল। তারা আমাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরো জানান, শুক্রবারও তাকে মোবাইল ফোনে কয়েকজন হুমকি দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর মহাখালী আমতলী মোড়ে হরতালের সমর্থনে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সমাবেশ চলছিল। এ সময় মতিঝিলে সমাবেশে যোগ দিতে হেফাজতের সমর্থকদের মিছিল এ স্থান অতিক্রম করছিল। হঠাত্ তারা উত্তেজিত হয়ে সমাবেশে হামলা চালায় ও চেয়ার-টেবিল তছনছ করে। তারা এক পর্যায়ে শাহরিয়ার কবীরকে টার্গেট করে হামলা করার চেষ্টা করে। এ সময় সমাবেশের লোকজন শাহরিয়ার কবীরকে ঘিরে রাখে। তখন হেফাজতের ইট-পাটকেলের আঘাতে অন্তত ১০ জন আহত হন। তারা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ও আওয়ামী লীগের ব্যানার ছিঁড়ে নেয়। পুলিশ সদস্যরা তাত্ক্ষণিক বাধা না দিয়ে ব্যানার ছেঁড়ার পর ধাওয়া করে। শুরু হয় পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এ সময় পুলিশসহ আরো ১০জন আহত হন। পরে হামলা শেষে হেফাজতের সদস্যরা মহাখালী কাঁচাবাজার এলাকায় উত্তেজিত শ্লোগান দিতে থাকে। এদিকে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সমাবেশ থেকে বেলা পৌনে ১১টার দিকে শাহরিয়ার কবির ও মুনতাসীর মামুন চলে গেলে এর কিছুক্ষণ পর সংলগ্ন রাস্তাটি অতিক্রম করে হেফাজতের একটি মিছিল। মিছিলটি এলে পুলিশ নির্মূল কমিটির সমাবেশস্থল ঘিরে দাঁড়ায় এবং মিছিলটি শান্তিপূর্ণভাবে যাওয়ার পথ তৈরী করে দেয়।
বনানী থানার এসআই জাকির হোসেন বলেন, সমাবেশ চলাকালে হেফাজতের মিছিল যাচ্ছিল, এ সময় সমাবেশে মিছিলবিরোধী বক্তব্য শুনে হেফাজতের সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। অতি উত্সাহী কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে হামলা চালিয়ে চেয়ার-টেবিল ভাঙে এবং ব্যানার ছিঁড়ে দেয়। এ ঘটনার সময় এক পুলিশ সদস্য আহত হন। তাকে হাসপাতালে চিকিত্সা দেয়া হচ্ছে।
