মুক্তচিন্তা ও মত প্রকাশের অধিকার রক্ষা ও গ্রেফতারকৃত ব্লগারদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন দেশের ৮৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক। গতকাল শনিবার ৮৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক স্বাক্ষরিত এক লিখিত বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়। বিবৃতিতে তারা বলেছেন, ‘আমরা সুস্পষ্ট ভাষায় গ্রেফতারকৃত ব্লগারদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি এবং অবিলম্বে মত প্রকাশের মৌলিক অধিকার হরণমূলক সকল কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জোর দাবি জানাচ্ছি’।
বিবৃতিতে তারা বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে মনে করি, সরকারি এসব দমনমূলক পদক্ষেপ প্রকৃতপক্ষে যুদ্ধাপরাধীদের সাথে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক অপশক্তিকেই মদদ দিচ্ছে এবং দেশে মুক্তচিন্তা এবং স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের মৌলিক অধিকারকে হরণ করে সার্বিক গণতান্ত্রিক পরিবেশকে বিপন্ন করে তুলেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, গভীর ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ব্লগারদের নেতৃত্বে পরিচালিত গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের প্রতি সারা দেশের সর্বস্তরের নারী-পুরুষ যখন অকুণ্ঠচিত্তে সমর্থন ব্যক্ত করেছেন, এই মঞ্চ থেকে যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবির পাশাপাশি জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবিটি আজ যখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে তখনই এই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকের ওপর যুগপত্ভাবে ধর্মব্যবসায়ী ও সরকারি মহল থেকে আক্রমণ নেমে এসেছে।
বিবৃতিদাতারা বলেন, অত্যন্ত লজ্জা ও পরিতাপের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার্থে এগিয়ে আসা ধর্মব্যবসায়ীদের চাপের মুখে সরকার নতজানু হয়ে আন্দোলনে সক্রিয় প্রগতিশীল ও দেশপ্রেমিক তরুণ প্রজন্মের ওপর দমন-পীড়ন চালাবার ঘৃণ্য নীতি গ্রহণ করেছে। তারই ফলে গত কয়েকদিনে ব্লগার মশিউর রহমান, সুব্রত অধিকারী, রাসেল পারভেজ ও আসিফ মহিউদ্দীনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে অযৌক্তিক অভিযোগে। ধর্মের নাম ব্যবহারকারী এসব অপশক্তির চাপে সরকার আরো অনেক তরুণকে অভিযুক্ত ও গ্রেফতার করার জন্য তালিকা তৈরি, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন ও নতুন-নতুন নিপীড়নমূলক পদক্ষেপ নেয়ার কথা ঘোষণা করেছে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা হলেন:কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, লেখক ও গবেষক মেঘনা গুহ ঠাকুরতা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, উন্নয়কর্মী খুশি কবীর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রফিকউল্লাহ খান, অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন, সহযোগী অধ্যাপক কাবেরী গায়েন, সহযোগী অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, সহযোগী অধ্যাপক ফাহমিদুল হক, সহযোগী অধ্যাপক ঈশানী চক্রবর্তী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. রহমান নাসির উদ্দিন, গণমাধ্যমকর্মী সানাউল্লাহ লাভলু, সাংবাদিক ও ব্লগার শওকত হোসেন মাসুম, ব্লগার ও রাজনৈতিক কর্মী বাকী বিল্লাহ প্রমুখ।
