পাকিস্তানের সেক্যুলার রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। দেশটির অন্যতম বৃহত্ একটি দলের নির্বাচনী সমাবেশ জঙ্গি হামলার ভয়ে বাতিল করা তারই ইঙ্গিত বহন করে। জঙ্গি হামলার ভয়ে সম্প্রতি পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) তাদের মজবুত অবস্থান লারকানায় সমাবেশ বাতিল করেছে।
সে মাসের নির্বাচনকে সামনে রেখে যে তিনটি রাজনৈতিক দলকে হামলার টার্গেট হিসেবে ঘোষণা করেছে তালেবানের মুখপাত্র, তার একটি পিপিপি। তাদের হিটলিস্টের অন্য দুটি দল করাচি ভিত্তিক এমকিউএম এবং পশতুন ন্যাশনালিস্ট পার্টি (এএনপি)। এএনপির সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থান উত্তর-পশ্চিমের খাইবার পাখতুন খাওয়ায়। এই তিনটি দলই নিজেদের সেক্যুলার বলে দাবি করে। তাদের কোয়ালিশন সরকার গত মেয়াদে পাকিস্তান শাসন করেছে।
চার বছর স্বেচ্ছা নির্বাসন থেকে দেশে ফিরে এসেছেন পারভেজ মোশাররফ। জঙ্গি হামলার ভয়ে ২৪ মার্চ তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশ বাতিল করা হয়েছে। তিনিও সেক্যুলার রাজনীতির ধ্যান-ধারণা পোষণ করেন। ইমরান খানের পিটিআই, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের পিএমএল এবং মাওলানা ফজলুর রহমানের দলগুলোও জঙ্গি হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীসহ ধর্মভিত্তিক দলগুলোর নির্বাচনী প্রচারণায় এ ধরনের ঝুঁকি নেই। তারা খোলামেলা নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারছে।
এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এই প্রতিকূলতার মাঝে সেক্যুলার রাজনৈতিক দলগুলো কি ধর্মভিত্তিক দলগুলোর সাথে সমানতালে প্রচারণা চালাতে পারবে। জঙ্গিদের হুমকি কতটা মারাত্মক এবং গোয়েন্দারা সেই হুমকি মোকাবেলায় কতটা সমর্থ ও আন্তরিক তার ওপর নির্ভর করছে এই প্রশ্নের উত্তর। জঙ্গিরা বারবার তাদের ক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। নিরাপত্তা বাহিনী উত্তর-পশ্চিমে জঙ্গিদের অভয়ারণ্যের তেমন কোন ক্ষতি সাধন করতে পারেনি। সবচেয়ে বেশি জঙ্গি হামলার শিকার হচ্ছে খাইবার পাখতুন খাওয়ার ক্ষমতায় থাকা এএনপি।
২০০৮ সালে দলটির প্রধান আসফাদযার ওয়ালি তার বাসার সামনে অল্পের জন্য আত্মঘাতী বোমা হামলা থেকে বেঁচে যান। এরপর থেকে দলটির নেতারা চলাফেরা সীমিত করেছেন এবং জনসংযোগ কমিয়ে দিয়েছেন। বিবিসির এক রিপোর্ট থেকে জানা যায়, এএনপির শীর্ষ নেতা বশির বিলাওরসহ ৭ শতাধিক নেতা গত ৪ বছরে ঘাতকের হাতে নিহত হন। দলটির কয়েকটি নির্বাচনী সভায় বোমা উদ্ধার হয়েছে। ফলে তালেবান হামলার ভয়ে তারা খোলামেলা প্রচারণা চালাতে পারছে না।
তৃণমূল পর্যায়ে পিপিপির নেতা জঙ্গি হামলার শিকার হয়েছেন। তবে দলটিকে ২০০৭ সালে বড় আঘাতের সম্মুখীন হতে হয়। দলের শীর্ষ নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো জঙ্গি হামলায় নিহত হন।
মোশাররফ সরকার এ ব্যাপারে সে সময় পাকিস্তানের তালেবানকে দায়ী করেন। ২০১১ সালে বেনজির ভুট্টোর স্বামী এবং তত্কালীন প্রেসিডেন্ট আসিফ জারদারি জঙ্গি হামলা থেকে অল্পের জন্য বেঁচে যান। অসুস্থ পিতাকে ইসলামাবাদে দেখতে যাওয়ার পথে তাকে থামিয়ে দেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। তাকে হত্যার জন্য পরিকল্পনা করেছিল আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীরা। এমকিউএম-এর মূল ঘাঁটি করাচিতে। সশস্ত্র কর্মীদের নিয়ে তাদেরও শক্তিশালী টিম আছে। কিন্তু সম্প্রতি তাদের কর্মীরা একের পর এক তালেবান হামলায় মারা পড়ছেন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এটি পরিষ্কার হয়ে যাবে পাকিস্তানের সেক্যুলার দলগুলো ধর্মভিত্তিক দলগুলোর সাথে সমানতালে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবে কিনা। সেক্যুলার দলগুলো বিশেষ করে পিপিপি এবঙ এএনপি নেতারা নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে মরিয়া। তারা প্রায় ৪ বছর জনগণের দোরগোরায় পৌঁছাতে পারেনি। এখন তারা যদি স্বাভাবিক প্রচারণা চালাতে না পারে তাহলে জনগণের সাথে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে তা ঘোচানোর সুযোগ পাবে না। ২০০২ সালের নির্বাচনের সময়ও জেনারেল মোশাররফ প্রধান কয়েকটি দলের নেতাকে নির্বাসনে থাকতে বাধা করেছিলেন। অতীতে পাকিস্তানের সামারিক শক্তিগুলো সেক্যুলার দলগুলোর চেয়ে ইসলামী দলগুলোকে বেশি সমর্থন দিয়েছে।
