বিদায় আলফাজ

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৩, ২২:১৩
ফুটবল মাঠ থেকে বিদায় নেয়া সব ফুটবলারেরই স্বপ্ন। বাংলাদেশের বাস্তবতায় আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচের ভেতর দিয়ে সেটা হলে তো সোনায় সোহাগা। কাল তেমনই স্বপ্নের মতো করে বিদায় নিলেন বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলের সফল তারকা এবং জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আলফাজ। বিদায়টাকে স্মরণীয় করে রাখতেই কাল মোহামেডান আলফাজকে সেরা একাদশে ঠাঁই দেয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, এই ফুটবলারকে সম্মান দিতে অধিনায়কের আর্ম ব্যান্ড তুলে দিয়েছিল মোহামেডান। ক্যারিয়ারের শেষ এই ম্যাচে প্রায় ১৯ মিনিট খেললেন। সেই চিরচেনা শারীরিক ভঙ্গিতে বল নিয়ে রাইট উইং দিয়ে আবাহনীর শিবিরে ঢোকার চেষ্টা করলেন। এই সময়ের মধ্যে গোল পেলেন না; মাঠ ছাড়লেন। সঙ্গে সঙ্গে বর্ণময় ফুটবলের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের যবনিকা হয়ে গেল। ফুলে ফুলে অভিনন্দন জানালেন মোহামেডানের খেলোয়াড় ও সমর্থকরা। ম্যাচ শেষে আবাহনীর পরিচালক কাজী নাবিল আহমেদ আবাহনীর ক্রেষ্ট ও ফুল দিয়ে আলফাজকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ঢাকার ফুটবলের মর্যাদার আসরে পা রাখেন ৯১-৯২ ফুটবল মৌসুমে। জাতীয় দলের জার্সি খুলেছেন ২০০৮ সালে। তার গোলে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল নেপালের সাফ গেমসে। অবসরের পর এসব স্মৃতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আলফাজ বললেন, ‘বাংলাদেশের জন্য যতোদূর সম্ভব লড়াই করার চেষ্টা করেছি। আমি কতটুকু সফল হয়েছি; সেটা আপনারাই বলতে পারবেন।’ ৪২ বছর বয়সের এই ফুটবলার ৯৫ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত টানা খেলেছেন গায়ে জড়িয়ে ছিলেন সাদাকালো জার্সি। মুক্তিযোদ্ধা, ব্রাদার্স, শেখ রাসেল, বিজেএমসির জার্সি গায়ে তাকে খেলতে দেখা গেছে। বিজেএমসির ফুটবল কর্মকর্তা আরিফ খান জয় বিদায় জানিয়েছেন আলফাজকে। শেখ জামাল থেকে আব্দুল গাফফার, রহমতগঞ্জ থেকে মোঃ মালা, শেখ রাসেলের হাবিবুর রহামন মানু, সাবেক ফুটবলার জাকির, মোশরাফ বাদল সহ অন্যরা বিদায় জানিয়েছেন আলফাজকে। বিদায়ের দিনে পুষপসিক্ত আলফাজ মোহামেডান আবাহনী গ্যালারী প্রদক্ষীণ করেন। দর্শকদের অভিনন্দনের জবাব দিতে দিতে মাঠ ছেড়ে চলে যান ১০ নম্বর জার্সি গায়ের এই স্ট্রাইকার।