শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের ২০২তম জন্মতিথী উপলক্ষে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার শ্রীধাম ওড়াকান্দিতে ২শ’ বছরের ঐতিহ্যবাহী স্নানোত্সব ও ৫ দিনের বারুনীর মেলা শুরু হচ্ছে আজ। প্রতি বছরের মতো এবারও এ অনুষ্ঠানে কয়েক লাখ লোকের সমাগম ঘটবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা। উত্সবস্থলে নিরাপত্তা দিতে র্যাব, পুলিশসহ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।
আয়োজকরা জানান, আজ সোমবার ভোর ৩ টায় শ্রীধাম ওড়াকান্দির গদিনসীন ঠাকুর ও মেলা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শচিপতি ঠাকুরের নেতৃত্বে ঠাকুর পরিবারের সদস্যরা প্রথমে বারুনী সাগরে ও পরে কামনা সাগরে স্নান করে স্নানোত্সবের শুভ সূচনা করবেন। পরে স্থানীয় হরি ও গুরু চাঁদ মন্দিরে পুরোহিতরা পূজা-অর্চনা শুরু করবেন। এরপর বিরামহীনভাবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে পুণ্যার্থীদের স্নান। পুণ্য লাভের আশায় লাখ লাখ লোক স্নানোত্সবে অংশ নেন। এসময় লাখ লাখ ভক্তের পদচারণায় প্রাণবন্ত হয়ে উঠে উত্সবস্থল।
তবে কামনা সাগর ও শান্তি সাগর নামের পুকুর দু’টিতে পানির গভীরতা কমে যাওয়ায় পুণ্যার্থীদের স্নানে দারুণ সমস্যা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা জানান, এসময় লাখ লাখ পুণ্যার্থীর স্নানে পুকুরের পানি কাদাযুক্ত হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে কাদাযুক্ত পানিতেই স্নান করতে হয় পুণ্যার্থীদের। এছাড়া পুকুর পাড়ে প্রয়োজনীয় ছাউনি না থাকায় ভক্তদের দারুণ দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
এদিকে ওড়াকান্দির স্নানোত্সবকে ঘিরে এখানে বসে ৫ দিনের বারুনীর মেলা। ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে এলাকার সর্বশ্রেণীর মানুষ এ মেলায় আসেন। মেলায় বেত, বাঁশ, ব্রোঞ্জ, মৃত্, কুটির শিল্পসহ বিভিন্ন লোকজ সামগ্রীর সমাবেশ ঘটে।
প্রসঙ্গত, কাশিয়ানী উপজেলার পুণ্যভূমি শ্রীধাম ওড়াকান্দি হরিচাঁদ ঠাকুরের লীলাক্ষেত্র ও সনাতন হিন্দু সমপ্রদায়ের মহাতীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত। হরিচাঁদ ঠাকুর মতুয়া ঠাকুর নামে পরিচিত। নিপীড়িত ও অবহেলিত মানুষের মুক্তিদূত এই আধ্যাত্মিক পুরুষ বাংলা ১২১৮ সালের ফাল্গুন মাসের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথীর মহবারুনীর দিনে উপজেলার সাফলীডাঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা যশোবন্ত ঠাকুরের পাঁচ পুত্রের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। মাত্র ৬৬ বছর বয়সে ১২৮৪ সালের একই দিনে তিনি পরলোকগমন করেন। জেলা সদর থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরের এই ওড়াকান্দি গ্রাম হরিচাঁদ ঠাকুরের অলৌকিকত্ব ও লীলার জন্য বিখ্যাত। এখানে ছোটবড় ৫ টি মন্দির রয়েছে।
