দেশের সীমান্ত এলাকার নির্দিষ্ট ২০টি পয়েন্ট দিয়ে অবাধে ঢুকছে আগ্নেয়াস্ত্র। ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসীরা এসব আগ্নেয়াস্ত্র দেশে প্রবেশ করাচ্ছে। সম্প্রতি রাজনৈতিক উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এসব পয়েন্ট দিয়ে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র প্রবেশের ঘটনা বেশি ঘটছে। এক্ষেত্রে কয়েকটি চালান র্যাব ও পুলিশের হাতে ধরাও পড়েছে। আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় অন্তত ৪ অস্ত্র ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে পুলিশ ও র্যাব আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবসার চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে।
এ ব্যাপারে র্যাবের মহাপরিচালক মোখলেসুর রহমান বলেন, মেহেরপুর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া ও যশোর সীমান্ত এলাকার বেশ কয়েকটি পয়েন্ট দিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র প্রবেশের ঘটনা ধরা পড়েছে। এছাড়া দেশের আরো কয়েকটি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র প্রবেশের খবর রয়েছে। এসব ঘটনায় র্যাব আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে।
র্যাবের মিডিয়া অ্যান্ড লিগ্যাল শাখার পরিচালক উইং কামান্ডার হাবিবুর রহমান বলেন, গত ১৮ জানুয়ারি মেহেরপুরের গাংনী থানার সীমান্তবর্তী সর্দারপাড়া গ্রাম থেকে র্যাব ১০টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ অস্ত্র ব্যবসায়ী ফুলসাদ মিয়াকে গ্রেফতার করে। ফুলসাদ মিয়া এসব আগ্নেয়াস্ত্র ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের একজন শীর্ষ সন্ত্রাসীর কাছে পাঠানোর কথা ছিল। গ্রেফতারকৃত ফুলসাদের বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার হোসেনাবাদ গ্রামে। ফুলসাদের আগেও দৌলতপুরের বিলগাথুয়া, জামালপুর, পাকুড়িয়া, ভাঙ্গাপাড়া, মুন্সিগঞ্জ, চর মোহাম্মদপুর, চল্লিশপাড়া, ছলিমেরচর, গোড়েরচর, মরারচর, বাংলাবাজার এলাকা দিয়ে প্রায় অর্ধশত আগ্নেয়াস্ত্র প্রবেশ করছে।
র্যাব আরো জানায়, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া, জামালপুর এবং রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মুন্সিগঞ্জ ভাঙ্গাপাড়া দিয়েই সবচেয়ে বেশি আগ্নেয়াস্ত্র বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। অবৈধভাবে ভারতের নদীয়া জেলার কাছারিপাড়া, বাউশমারী ও শিকারপুর এলাকা দিয়ে বাংলাদেশ পয়েন্টে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র প্রবেশ করছে।
র্যাব-৫ জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ও বিনোদপুর এলাকা দিয়ে সবচেয়ে বেশি আগ্নেয়াস্ত্র প্রবেশ করে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে র্যাব এই এলাকা থেকে শাহ আলম ও মাসুম নামের দুইজন আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা জানায়, মনাকষা ও বিনোদপুর এলাকার পোল্লাডাঙ্গা, বকচর, হাকিমপুর, বাখর আলী, বাগডাঙ্গা, মাসদুপুর, শিং নগর, মনোহরপুর, রঘুনাথপুর, কিরণগঞ্জ ও চৌকা সীমান্ত দিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবসা হয়।
র্যাব আরো জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া, কুমিল্লার বিবিরবাজার, চৌদ্দগ্রাম, ফেনীর বিলোনিয়া, আমতলী, কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকা দিয়ে সম্প্রতি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা প্রায় আড়াই হাজার বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে ২৪৫টি, ফেব্রুয়ারিতে ২৭৫টি, মার্চে ১৭৪টি, এপ্রিলে ১৬১টি, মে মাসে ২০৩টি, জুনে ১৪৩টি, জুলাইয়ে ১৮১টি, আগস্টে ১৮৮টি, সেপ্টেম্বরে ২০৪টি, অক্টোবরে ২১০টি, নভেম্বরে ১৯৫টি এবং ডিসেম্বরে ২১৫টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। কিন্তু উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্রের কয়েকগুণ বেশি আগ্নেয়াস্ত্র আসছে।
