নিজ বিদ্যালয়ের খেলাধুলার সংকুচিত মাঠ সম্প্রসারণে স্বে্চ্ছাশ্রমে খাল ভরাট করছে দশ যুবক। এরা সবাই পাবনার ভাঙ্গুড়ার অষ্টমনিষা ইউনিয়নের ছোটবিশাকোল গ্রামের বাসিন্দা। এদের বেশির ভাগই কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। পূর্বে তারা ছোটবিশাকোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েরই ছাত্র ছিল। নতুন একটি শ্রেণী ভবন নির্মাণের পর খেলার মাঠ সংকুচিত হওয়ায় এলাকার জনপ্রতিনিধিরা বহুবার ওয়াদা করেও স্কুলের মাঠসংলগ্ন খালটি ভরাট করে দেয়নি। এ সমস্যা সমাধানের কোন উপায় না দেখে গ্রামের দশ যুবক উদ্যোগ নেয় স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে তাদের প্রিয় স্কুলটির মাঠসংলগ্ন খাল ভরাট করে মাঠ সম্প্রসারণ করতে। এদের একজন হামিদুর রহমান মার্কেটিং সম্মান শেষবর্ষের ছাত্র। বাবুল আক্তার, আরিফুল ইসলাম, জুয়েল রানা, কোরবান হোসেন, হেলালউদ্দিন ও টিপু সুলতান কলেজে পড়ে। আব্দুর রউফ বাংলাদেশ আনসার বাহিনীর সদস্য, আমিরুল ইসলাম দিনমজুর এবং মাসুদ রানা ছোটবিশাকোল স্কুলের দপ্তরি-কাম প্রহরী। হামিদুর রহমান ও মাসুদ রানা জানান, গ্রামের স্কুলের মাঠই তাদের খেলাধুলা ও বিনোদনের একমাত্র জায়গা। তারা নিজ বাড়ি হতে ডালি-কোদাল নিয়ে শুরু করে মাটি কাটার কাজ। ছাত্ররা সকালে কলেজ করে আর বিকালে নিকটবর্তী গুমানী নদী থেকে মাটি কেটে এনে খালটি ভরাটের কাজ করছে। অন্য যুবকরা ছুটিতে বাড়ি এসে তাদের সাথে কাজ করছে। দিন-মজুর আমিরুল দুপুর পর্যন্ত অন্যের কাছে শ্রম বিক্রি করে আর বিকালে স্কুলের জন্য খাল ভরাটের কাজ করে। জানা গেছে খালটি ভরাট করতে ৫০/৬০ হাজার ঘনফুট মাটি ফেলতে হবে। এরা পুরো কাজটি স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর।
