পাকিস্তানে তিরাহ উপত্যকায় অভিযান ২৬ সেনা ও শতাধিক তালেবান নিহত

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০১৩, ২০:৩০
পাকিস্তানের তিরাহ উপত্যকায় তেহরিক-ই-তালেবান (টিপিপি) মদদপুষ্ট জঙ্গিদের সাথে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষে গত চার দিনে অন্ততপক্ষে ২৬ জন সেনা ও একশ’রও বেশি জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে দেশটির নিরাপত্তাকর্মীরা জানিয়েছে। কোন অভিযানে এটাই সবচেয়ে বড় হতাহতের ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে। পুরো জাতি যখন আগামী মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ভোট যুদ্ধের দিকে তাকিয়ে তখন এ ধরনের একটি ভয়াবহ হতাহতের ঘটনা ঘটলো। খবর ডন অনলাইনের। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটা একটি ভয়াবহ অভিযান ছিল। এ ঘটনা আরো প্রমাণ করে কতটা বিপজ্জনক এই উপজাতীয় পাহাড়ি অঞ্চলটি। “প্রথম দুইদিন প্রচণ্ড যুদ্ধ হয়েছে। এখনো জঙ্গিদের কাছ থেকে প্রতিরোধ আসছে। কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনী ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছে।” একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা একথা জানান। বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান দ্বারা আকাখেল ও ময়দান এলাকায় জঙ্গিদের অবস্থানে হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। সেনাবাহিনীর বিশেষ এলিট গ্রুপ কৌশলগত দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও আফগানিস্তানের নানগরহর প্রদেশের সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত এ তিরাহ উপত্যকায় যুদ্ধে অংশ নেয় এবং হামলা করে। নিরাপত্তা বাহিনী এখন ওরাকজাইয়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এদিকে চাপে পড়ে টিটিপি তাদের সদস্যদের তিরাহ থেকে মার্চেই সড়িয়ে নিয়েছিল। তারা খাইবার উপজাতীয় অঞ্চলে সরকারপন্থি আনসার-উল-ইসলামকে হটিয়ে ঐ উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে। এতে ঐ অঞ্চল থেকে ৪৩,০০০ মানুষ অন্যত্র চলে গেছে বলে জানিয়েছেন উপজাতীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা। ভারতীয় পত্রিকা বর্তমানের বরাতে জানা যায়, ওরাকজাই আদিবাসী এলাকায় তিরাহ উপত্যকায় তালেবানদের শক্ত ঘাঁটি থাকায় পাক সেনারক্ষ থেকে অভিযান চালানো হয়েছিল। এস এস জি কমান্ডো, পাক সেনা ও ফ্রন্টিয়ার কপর্স-এর মিলিত বাহিনী গত কয়েকদিন ধরেই এই অভিযানে অংশ নিয়েছে। পাক প্রশাসনের লক্ষ্য উপজাতি এলাকায় শক্ত ঘাঁটি থেকে তালিবানকে উত্খাত করা। পাক সেনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই অভিযান প্রায় সন্ধিক্ষণে পৌঁছে গিয়েছে। প্রশাসনের আশা ঐ এলাকা থেকে তালেবানকে পুরোপুরি উত্খাত করা সম্ভব হবে। তবে তালিবানের পক্ষ থেকে হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে যে কোনও মূল্যে পূর্ণ ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রণয়ন করাই তাদের লক্ষ্য। আসন্ন নির্বাচনকে ‘বিধর্মীদের’ কাজ কারবার হিসাবে চিহ্নিত করে তেহরিক-ই-তালেবান এর প্রধান হাকিমুল্লাহ মেহসুদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানে ইসলামি শাসন চালু করার জন্যই তারা জেহাদ ঘোষণা করেছে। এক ভিডিও বার্তায় হাকিমুল্লার সাফ কথা, পাকিস্তানে ইসলামি বা শরিয়ত আইন প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে লড়াই চালাচ্ছে তালেবান। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার চোরাচালানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ তিরাহ। এ উপত্যকার জঙ্গিদের অভয়াণ্য ওরাকজাই , সোয়ত, মোহমান্দ এবং বাজাউর থেকে পাঁচশ’রও বেশি টিটিপি যোদ্ধাকে হটিয়ে দেয়া হয়েছে বলে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছে। তাছাড়া সেনা কর্মকতারা মনে করে যদি এ অঞ্চলে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা যায় তবে বারা থেকে পেশোয়ার পর্যন্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে।