‘বোমা ফাটাতে হবে এ জন্য চাঁদা দিতে হবে। চাঁদা না দিলে তোর মাথায় বোমা ফাটানো হবে।’ এমনই অভিযোগ রাজধানীর গুলিস্তান এলাকার এক ফুটপাত দোকানির। আর এ চাঁদার টাকা তোলা হচ্ছে জাহিদ হোসেন নবাব নামে এক নেতার নামে। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের কাছেও এমন তথ্য রয়েছে। বিষয়টি যাচাই বাছাই করে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময় রাজধানীর খিলগাঁও ও বংশাল এলাকায় বোমা তৈরিকালে বিস্ফোরণে আহত হয়ে গ্রেফতারকৃত মনির , সাঈদ, বেলায়েত ও রুবেল পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বোমা তৈরিতে সহায়তাসহ বেশ কিছু তথ্য দিয়েছে।
মতিঝিল জোনের এডিসি মেহেদী হাসান জানান, বোমা তৈরি বা বোমা তৈরির জন্য চাঁদাবাজির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গুলিস্তানের পরিবহন মালিক জানান, তিনি কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন সময় তাকে চাঁদা দিয়েই ব্যবসা করতে হচ্ছে। আর সম্প্রতি এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বোমাবাজির জন্য চাঁদাবাজি। চাঁদার পরিমাণ দশ হাজার টাকা থেকে ২০ হাজার করে দিতে হচ্ছে।
একই অভিযোগ ফুটপাতের দোকানদারদেরও। তাদের এক থেকে দুই হাজার টাকা করে দিতে হচ্ছে। তারা আরও জানান, গুলিস্তান এলাকার টোকাইদের দিয়ে নবাব হরতালের দিনে বিভিন্ন এলাকায় ককটেল ফাটায়। আগুন ধরায় পার্ক করা গাড়িতে। গুলিস্তান, মতিঝিল, মালিবাগ, রমনা, পল্টন এলাকায় এরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। তবে প্রতি ককটেল নিক্ষেপের জন্য টোকাইরা পেয়ে থাকে পাঁচ শত থেকে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা।
এদিকে ককটেল তৈরির সময় গ্রেফতারকৃতরা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, তাদের ককটেল তৈরির মাল মসলা সরবরাহ করা হয়ে থাকে। তারা টাকার বিনিময় ককটেল তৈরি করে থাকে। প্রতিটি ককটেলের জন্য তাদের দেয়া হয়ে থাকে এক হাজার টাকা করে। আর বোমা তৈরির জন্য নবাবের নির্ধারিত লোকজনই তা নিয়ে যেত। কারা নিক্ষেপ করে সে ব্যাপারে তাদের কোন ধারণা নেই।
