অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির পরামর্শ স্থায়ী কমিটির

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০১৩, ২১:২৩
সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভায় বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ১৪টি প্রতিষ্ঠানের ওপর উত্থাপিত অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি করে কমিটিকে দ্রুত অবহিত করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। গতকাল সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি এম এ মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ পরামর্শ দেয়া হয়। কমিটির সদস্য অধ্যাপক মোঃ আলী আশরাফ, মুহাঃ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক, মোহাম্মদ ছায়েদুল হক, খান টিপু সুলতান, মেজর জেনারেল (অব.) আবদুস সালাম এবং নারায়ণ চন্দ্র চন্দ সভায় অংশগ্রহণ করেন। সভায় বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপর বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) কার্যালয়ের অডিট রিপোর্ট; অর্থ বছর: ২০০৬-২০০৭ এর অডিট আপত্তি ও মন্তব্যের অনুচ্ছেদ নং- ২, ৩, ৪, ৭ ও ৮ এর উপর প্রতিবেদন উপস্থাপন ও আলোচনা হয়। সভায় বলা হয় যমুনা অয়েল কোং লিঃ বিভিন্ন তেল ট্যাংকারের সাথে চুক্তিকালীন কর্তৃপক্ষ জ্বালানি তেল পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি করে তা পেছনের তারিখ হতে কার্যকর দেখিয়ে বর্ধিত ভাড়ার বকেয়া প্রদান করায় ৪৪ লাখ ৬২ হাজার ১৭৯ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। এই অডিট আপত্তির প্রেক্ষিতে পূর্বে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে কিনা তা উল্লে¬খ করে আগামী ১ মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রমাণসহ একটি প্রতিবেদন সিএজি’র মাধ্যমে কমিটিতে দাখিল করতে বলা হয়। সভায় বলা হয় যমুনা অয়েল কোং লিঃ এর চিলমারী বার্জ ডিপোর সিনিয়র অপারেশন অফিসার (ডিপো) মোহাম্মদ আলী পিএসআই জালিয়াতের মাধ্যমে ২৩ লাখ ১২ হাজার ৩১৬ টাকার স্থলে মাত্র ৭ হাজার ২৯৩ টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে বাকি ২৩ লাখ ৫ হাজার ২৩ টাকা তেলের মূল্য আত্মসাত্ করায় সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। এই অডিট আপত্তির প্রেক্ষিতে বর্তমানে কোম্পানি হিসাবে যথাযথভাবে আদায় ও জমার বিষয়টি দেখালেও নিরীক্ষাকালে নিরীক্ষাদলকে কোম্পানি হিসাবে যথাযথভাবে আদায় ও জমার বিষয়টি অবহিত করা হয়নি কেন তা তদন্ত করে আগামী ১ মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রমাণকসহ একটি প্রতিবেদন সিএজি’র মাধ্যমে কমিটিতে দাখিল করতে বলা হয়। জড়িত ব্যক্তির নিকট হতে ক্ষতির টাকা আদায় করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়। সভায় বলা হয় পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ও পরিচালকের (অপাঃ) ব্যবহূত গাড়ির জ্বালানি ও ড্রাইভারের বেতন ভাতা বিধি বহির্ভূতভাবে প্রতিষ্ঠান পরিশোধ করায় সরকারের ২১ লাখ ৯৮ হাজার ৫০৩ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এই অডিট আপত্তির প্রেক্ষিতে আগামী ১ মাসের মধ্যে যানবাহন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ বিধি-৮৬ এবং সার্বক্ষণিকভাবে গাড়ির সুবিধা বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সার্কুলার সামনে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করে দায়-দায়িত্ব নির্ধারণসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণসহ আগামী ১ মাসের মধ্যে সিএজি’র মাধ্যমে কমিটিকে অবহিত করতে বলা হয়। এছাড়া গ্যাস বিক্রয়ের খাতওয়ারী বিভাজন সঠিকভাবে না করায় বিক্রয় মূল্যের জিওবির মার্জিন বাবদ দু’বছরে ৯৯ কোটি ৪ লাখ ৩১ হাজার ৫৫৩ টাকা সরকারের রাজস্ব ক্ষতি এবং গ্যাস বিতরণে “সিস্টেম লস” এর নামে বছরে ৬৪০ কোটি ৩৩ লাখ ১ হাজার ৩১ টাকা সরকারের রাজস্ব ক্ষতি অডিট আপত্তি দু’টি নিয়ে আগামী বৈঠকে আলোচনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোঃ মোজাম্মেল হক খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশি¬ষ্ট কর্মকর্তাগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।