খালেদা জিয়ার হরতাল শুধুমাত্র যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে :হানিফ

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৩, ২৩:০১
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া হরতাল দিচ্ছেন শুধুমাত্র যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে, নিজেকে এবং তার দুই পুত্রকে দুর্নীতির হাত থেকে বাঁচাতে। জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া ক্ষমতায় যেতে দেশবিরোধী ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছেন তিনি। বিরোধী দলের ডাকা হরতালে সাধারণ মানুষের স্বার্থের কোনো কথা নেই। গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর মিরপুরের পূরবী সিনেমা হলের সামনে হরতাল বিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সারাদেশে বিএনপি ও জামায়াতের ‘নৈরাজ্য’ সৃষ্টির প্রতিবাদে যুবলীগ ঢাকা মহানগর উত্তর এ সমাবেশের আয়োজন করে। হানিফ বলেন, ‘মঙ্গলবার আমি একটি অনলাইন পত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছি, হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশের জন্য দৈনিক ‘আমার দেশ’ পত্রিকার অফিসে ৮০ থেকে ৮৫ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে মাহমুদুর রহমান পেয়েছেন ৪ কোটি টাকা। আমার বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান গোস্বা করেছেন। তিনি বলেছেন, এ বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে তিনি মামলা করবেন।’ এরপর মাহমুদুর রহমানের উদ্দেশে হানিফ বলেন, ‘আমাকে মামলার ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। আপনি এর আগে বহুল আলোচিত উত্তরা ষড়যন্ত্র করার সময় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। আপনি বহু ষড়যন্ত্রের নায়ক। তাই দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার জন্য সরকার আপনার বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিই দেখুন।’ হানিফ আরো বলেন, বিএনপি এখন বলছে তারা হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফার সঙ্গে পুরোপুরি একমত নয়। অথচ সংহতি জানাতে বিএনপি নেতারা তাদের সমাবেশে হাজির হয়েছিলেন। তার মানে বিএনপি এখন হেফাজতে ইসলামের সঙ্গেও নেই! হেফাজতের সঙ্গে মিলেমিশে ষড়যন্ত্রে সুবিধা করতে না পেরে তারা এখন পিঠটান দিচ্ছে! বিএনপি আসলে রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। খালেদা জিয়ার কাছে প্রশ্ন রেখে হানিফ বলেন, আপনার উগ্র জঙ্গিবাদের ‘সাফল্যে’র কারণেই কি জনগণ আপনাদের ক্ষমতায় আনবে? হানিফ বলেন, যে গার্মেন্টস শিল্পের সঙ্গে দেড় কোটি মানুষ জড়িত, তা তিনি (খালেদা জিয়া) ধ্বংস করতে চান। এমনকি তিনি যু্ক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বাতিলের জন্য। এবারের হরতালের দুই দিন পথেঘাটে জনগণের স্বাভাবিক কার্যক্রম দেখে সহজে বোঝা যায়, জনগণ তাদের হরতাল প্রত্যাখ্যান করেছে। মাহবুব-উল-আলম হানিফ আরো বলেন, হেফাজতে ইসলাম কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়। রাজনৈতিক কর্মসূচি তাদের কাছ থেকে কাম্য নয়। হযরত মুহাম্মদ (সা.)কে নিয়ে যারা কটূক্তি করে, তাদের শাস্তি আমরাও চাই। কিন্তু যখন হেফাজতে ইসলাম ভারতীয় উপমহাদেশে যিনি নবী করিম (সা.)কে নিয়ে কটূক্তি করেছেন, সেই মওদুদী এবং তার অনুসারী জামায়াতের শাস্তি দাবি করে না, তখন তাদের উদ্দেশ্য পরিষ্কার হয়ে যায়। যুবলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মঈনুল হোসেন খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, যুবলীগের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ প্রমুখ।