বিসমিল্লাহ গ্রুপের ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় এবার যমুনা ব্যাংকের ১২ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিস পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বুধবার বিকালে দুদকের অনুসন্ধান দলের প্রধান ও দুদকের উপ-পরিচালক সৈয়দ ইকবাল ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের নোটিস পাঠান। আগামী ২২ ও ২৪ এপ্রিল দুই দফায় তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
দুদক জানায়, আগামী ২২ এপ্রিল ৮ জনকে ডাকা হয়েছে। তারা হলেন- যমুনা ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবুল শাহজাহান, ফার্স্ট অ্যাসিসট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোজারুল হক, রফিকুল হাসান, মোরশেদুর রহমান ও এসএম জাহিদুল ইসলাম এবং এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট আলী আশরাফ, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার এএসএম মাসউক এবং এক্সিকিউটিভ অফিসার শামীমা আকতার। এছাড়া আগামী ২৪ এপ্রিল ব্যাংকটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মতিয়ার রহমান, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ইউনুস আলী ও হাবিবুল কবির এবং এক্সিকিউটিভ অফিসার রেজাউল করিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
দুদকের অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তাদের কাছে অভিযোগ আসে প্রাইম ব্যাংকের কাছ থেকে ৩৮০ কোটি, শাহজালাল ব্যাংকের ১৪৯ কোটি, প্রিমিয়ার ব্যাংকের প্রায় ৮০ কোটি, জনতা ব্যাংকের প্রায় ৪শ কোটি, সাউথ-ইস্ট ব্যাংকের ২৭ কোটি ও যমুনা ব্যাংকের কাছ থেকে ১৬৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ভুয়া প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে বেনামে ঋণচুক্তি করে বিসমিল্লাহ গ্রুপ। এ অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক অনুসন্ধান চালিয়ে জানতে পারে জালিয়াতির মাধ্যমে বিসমিল্লাহ গ্রুপের মালিক ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক থেকে মোটা অঙ্কের ঋণ নেন। অথচ ওই ঋণের বিপরীতে বিদেশ থেকে কোনো পণ্য আমদানি করেননি। সূত্রটি আরো জানায়, সত্য উদঘাটনের জন্য গত ৪ মার্চ অনুসন্ধানী দলের প্রধান ওই গ্রুপের বিরুদ্ধে ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় তথ্য-উপাত্ত চেয়ে জনতা ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক ও শাহজালাল ব্যাংকের এমডির দফতরে চিঠি পাঠান। একই বিষয়ে গত ৬ মার্চ সাউথ-ইস্ট ব্যাংকের এমডির কাছে চিঠি পাঠান। দুদকের ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকগুলো বিসমিল্লাহ গ্রুপের ঋণ সংক্রান্ত বেশ কিছু নথিপত্র জমা দিয়েছে দুদকের অনুসন্ধানী দলের কাছে। এখন ওই নথিগুলো পর্যালোচনা শেষে দুদক মনে করছে, বিধি বহির্ভূতভাবে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি ব্যাংকের কর্মকর্তাও এ ঘটনায় জড়িত। সে কারণে সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুদকের অনুসন্ধানী দল।
