বছরের শুরুতেই রেকর্ড পরিমাণে কমেছে পিসি’র বিক্রি

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৩, ১৮:৩৫
স্মার্টফোন আর ট্যাবলেট পিসি’র কারণে ডেস্কটপ বা ল্যাপটপের বিক্রি হুমকির মুখে পড়বে বলে অনেকেই ধারণা পোষণ করেছেন এতদিন। তাদের সেই ধারণাই দিনদিন সত্যিতে পরিণত হচ্ছে। গত বছরের প্রথম চতুর্ভাগে যে পরিমাণ পিসি বিক্রি হয়েছে বিশ্বব্যাপী, চলতি বছরের প্রথম চতুর্ভাগে সেই বিক্রির পরিমাণ কমেছে প্রায় ১৪ শতাংশ। গত দুই দশকে এক চতুর্ভাগের হিসেবে এটি নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। এর আগে এত বেশি হারে কখনই পিসির বিক্রি কমেনি। শুধু তাই নয়, পুরো বছরের চারটি চতুর্ভাগেই কমেছে পিসির বিক্রি। তথ্যপ্রযুক্তির বাজার বিষয়ক গবেষণা সংস্থা আইডিসি তাদের সর্বশেষ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। তাদের প্রদান করা তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে বিশ্বব্যাপী পিসি বিক্রির পরিমাণ ছিল ৭৬.৩ মিলিয়ন ইউনিট। তারা এর আগে অনুমান জানিয়েছিল, এই সময়ে আগের বছরের প্রথম চতুর্ভাগের তুলনায় ৭ থেকে ৮ শতাংশ বিক্রি কমবে। তবে তাদের অনুমানকে ছাড়িয়ে গিয়েছে প্রকৃত চিত্র। পিসির বাজার কমে যাওয়ার পেছনে মাইক্রোসফটের সর্বশেষ উইন্ডোজ সংস্করণ উইন্ডোজ ৮-এর ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেছে আইডিসি। আইডিসি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট এই প্রতিবেদন সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক হলেও এটি স্পষ্ট যে উইন্ডোজ ৮ বাজার চাঙ্গা করতে কোনো প্রভাব রাখতে সমর্থ হয়নি। শুধু তাই নয়, বাস্তবতা হচ্ছে এটি পিসির বাজারকে আরও ধীরগতির করে তুলেছে।’ উইন্ডোজ ৮-এর নতুন সব ফিচারগুলো অনেক বেশি টাচ ডিভাইসের জন্য উপযোগী বলে এটি পিসির বাজারকে খুব একটা আকৃষ্ট করতে পারেনি বলেই মন্তব্য তাদের। এদিকে পিসি নির্মাতা হিসেবে আইডিসি’র হিসেবে আবারও শীর্ষে উঠে এসেছে এইচপি। ১৫.৭ শতাংশ বাজার নিয়ে তারাই এখন পিসি নির্মাতা হিসেবে রয়েছে প্রথমে। ১৫.৩ শতাংশ বাজার নিয়ে অবশ্য তাদের ঘাড়ের উপর নিঃশ্বাস ফেলছে লেনোভো। মালিকানা নিয়ে জটিলতার মধ্যে থাকলেও নিরাপদ দূরত্ব নিয়েই তিনে রয়েছে ডেল। তাদের বাজার ১১.৮ শতাংশ। পরের দুইটি স্থানে রয়েছে যথাক্রমে এসার (৮.১ শতাংশ) এবং আসুস (৫.৭ শতাংশ)। এদিকে আরেক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গার্টনার জানাচ্ছে, পিসির এই দুঃসময়ে ট্যাবলেট পিসির বিক্রি দিনদিন বাড়ছেই। আর পিসি বিক্রি কমে যাওয়াকে তারা সাময়িক কোনো ঘটনা নয় বরং ক্রেতাদের দীর্ঘমেয়াদি আচরণ হিসেবেই মনে করছেন।