বৈশাখী গামছা বিক্রির ধুম

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০১৩, ২০:৪৯
বাঙালির প্রাণের উত্সব পহেলা বৈশাখ। এই উত্সবকে সামনে রেখে পোশাকের পাশাপাশি বৈশাখী গামছা কেনার ধুম পড়েছে। মাথায় গামছা বেঁধে প্রতি বছরের মতো এবারও পহেলা বৈশাখে মেতে উঠবে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব বয়সী মানুষ। গামছা শব্দটি একান্তই বাঙালির নিজস্ব ভাষা। গা মোছা থেকে গামছা। নিজস্ব কৃষ্টি নিয়েই গামছার বিকাশ। আদিতে গামছা ব্যবহারে গ্রাম শহরে কোনো পার্থক্য ছিলো না। কিন্তু শহরের শিক্ষিত মানুষ এক সময় ঝুঁকে পড়ে তোয়ালে ব্যবহারে। যদিও বাঙালি চেতনার উন্মেষের সাথে সাথে গামছা তার হূত গৌরব ফিরে পেয়েছে শহুরে মানুষের মাঝে। বাঙালি উত্সবের গামছার ব্যাপক ব্যবহারে ফিরিয়ে এনেছেন ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেল। শুধু দেশেই নয় বরং গামছাকে তিনি তুলে ধরেছেন আন্তর্জাতিক পর্যায়েও। তবে তিনি এটিকে জনপ্রিয় করেছেন একটু অন্যভাবে। গামছাকে ঠিক গামছা হিসেবে নয়, কাপড় হিসেবে তুলে এনেছেন পোশাকে। বর্তমানে শাড়ি, ফতুয়া, স্কার্ট, ওড়না, সালোয়ার-কামিজ এমনকি পাঞ্জাবি তৈরিতে ব্যবহার হচ্ছে গামছা। কুষ্টিয়ার কুমারখালি কাপুড়িয়া হাট ঐতিহ্যবাহী। এখানে আছে গামছার পাইকারি বাজার। দূর-দূরান্ত থেকে উত্পাদকেরা এখানে আসেন গামছা বিক্রি করতে। আর খুচরা বিক্রেতারা এখান থেকে লাল, সবুজ, হলুদ, মেরুন, কালো, নীলসহ উজ্জ্বল সব রঙের গামছা কিনে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েন। এরকম কয়েকজন খুচরা গামছা বিক্রেতা ইত্তেফাককে জানান, সারা বছর গামছা বিক্রি থাকলেও বৈশাখী উত্সবে বিক্রির পরিমাণ বেড়ে যায়। বেশ কয়েক বছর যাবত বৈশাখ মাস সামনে রেখে গামছা বিক্রির ধুম পড়ে। বিশেষত পহেলা বৈশাখ উত্সব পালনে সব বয়সের নারী পুরুষ গামছা ব্যবহার করেন। আর এ কারণে গামছা বিক্রির ধুম পড়ে যায়। তবে এক্ষেত্রে সব থেকে বেশি বিক্রি হয় দুই হাত লম্বা এক হাত চওড়া বৈশাখী গামছা। বৈশাখী গামছা পাইকারি প্রতিটির মূল্য ২২ থেকে ২৫ টাকা। পাশাপাশি খুচরা বিক্রি হয় এলাকাভেদে পঁয়ত্রিশ থেকে পয়তাল্লিশ টাকা।