চ্যাম্পিয়নস লিগ টি-টোয়েন্টি

সুযোগ না পেয়ে হতাশ বাংলাদেশ

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০১৩, ২১:২৭
এবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) শুরুর আগেই একটা আশ্বাস পাওয়ার কথা শোনা গিয়েছিল—পঞ্চম চ্যাম্পিয়নস লিগ টি-টোয়েন্টিতে খেলার সুযোগ পাবে বিপিএল চ্যাম্পিয়ন দল। সে লক্ষ্যে আয়োজকদের সঙ্গে দেনদরবারও করেছে চ্যাম্পিয়ন ঢাকা গ্লাডিয়েটর্স ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। কিন্তু গতকাল বোঝা গেল, দেনদরবারে কাজ হয়নি। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ভারতে শুরু হতে যাওয়া চ্যাম্পিয়নস লিগেও নেই বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধিত্ব। আর এ নিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ ও হতাশ বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। বিপরীতে খেলার সুযোগ না পাওয়া বিপিএল চ্যাম্পিয়ন দল ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বিসিবি ও বিপিএলের পক্ষ থেকে যোগাযোগ না করায়ই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সুযোগ হয়নি তাদের। ভারতে তৃতীয়বারের মতো আয়োজিত হতে যাওয়া চ্যাম্পিয়নস লিগ আরও কিছু কারণে শুরুর আগেই আলোচনায় চলে এসেছে। যার মধ্যে সবচেয়ে কারণটি হচ্ছে, প্রথবারের মতো এখানে অংশ নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে পাকিস্তানের কোন দল; এবার বাছাইপর্ব খেলবে পাকিস্তানের ফয়সালাবাদ উলফস। আরেকটি বড় ব্যাপার হল, এই প্রথম ইংল্যান্ডের কোনো প্রতিনিধিত্ব থাকছে না টুর্নামেন্টে; ইসিবি আগেই নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে এখান থেকে। তবে বাংলাদেশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল, তাদের কোনো প্রতিনিধিত্ব না থাকা। গতকাল নিজেদের প্রতিনিধিত্ব না থাকার খবর শুনে হতাশা ব্যক্ত করলেন বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক। তিনি বলছেন, যদিও এটা আইসিসি বা এরকম কারো ওপর নির্ভর করে না, তারপরও তারা আশা করেছিলেন, ‘চ্যাম্পিয়নস লিগের সমস্যা হল, তিনটি ক্রিকেট বোর্ড মিলে এটা চালায়—ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলে এরা কোনো নিয়ম মানতে বাধ্য না। কিন্তু মানের বিবেচনায় বিপিএলকে অস্বীকার করার কোনো উপায় ছিল না। তাই আমরা এই খবরে যথেষ্ট হতাশ হয়েছি। আমরা আগামীকালই (আজ) চেষ্টা করবো আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে একটা ব্যাখ্যা জানার। অন্তত কী হলে আমরা থাকতে পারতাম, এটা তো বোঝার চেষ্টা করতে হবে।’ কিন্তু বিস্ময়কর ব্যাপার হল, যে দলটির খেলার সম্ভাবনা ছিল সেই ঢাকা গ্লাডিয়েটর্স বলছে, বিপিএলের পক্ষ থেকে আসলে যোগাযোগ না করাতেই এই বিড়ম্বনা হয়েছে। ঢাকা দলের পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ক্লাবটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শিহাব চৌধুরী বলেছেন, ‘আমরা আইসিসির সঙ্গে বৈঠক করেছি। এরপর আয়োজকদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই সূচি ঘোষণা করা হয়ে গেল। আমাদের বলা হয়েছিল, বিসিবির পক্ষ থেকে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে সুপারিশ করা হবে। কিন্তু বিস্ময়করভাবে সেটা করা হয়নি। আমাদের এমনও বলা হয়েছিল যে, আমাদের খেলার ভালোই সম্ভাবনা আছে। কিন্তু (বিসিবির তরফ থেকে) কোনো যোগাযোগ না করায় আমাদের বিবেচনাই করা হয়নি।’ ডাক্তার মল্লিক দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন বিপিএল এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। তাই যৌক্তিক কোনো কারণ তিনি দেখতে পাচ্ছেন না বাংলাদেশের কোনো দল না থাকার, ‘দেখুন আমি জোর গলায় বলতে পারি, আইপিএলের পর সবদিক থেকেই বিশ্বের সেরা টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বিপিএল। বিগ ব্যাশের চেয়ে আমাদের টুর্নামেন্টে তারকা বলুন, দর্শকের আগ্রহ বলুন, প্রতিদ্বন্দ্বিতা বলুন কোনো দিন থেকেই কম ছিল না। ঢাকবা গ্লাডিয়েটর্স এখন তারকার বিচারে বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। তাহলে কেন আমরা সুযোগ পেলাম না?’ এই প্রশ্নের উত্তর বাংলাদেশের সবাই খোঁজ করছেন। বিসিবিও খোঁজ করবে বলে আশ্বাস দিলেন মল্লিক। তবে তার নিজের একটা উত্তরও আছে, ‘চ্যাম্পিয়নস লিগ আসলে ভারতীয় বোর্ডই নিয়ন্ত্রণ করে। তারা আইপিএল ছাড়া আর কোনো টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে নিজেদের খেলোয়াড় দেয় না। এখন আমরা ভাবতে পারি, তারাই হয়তো বিপিএলের উত্থানও পছন্দ করছে না। তবে এটা নিয়ে আমরা বোর্ড প্রেসিডেন্ট মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলবো। তিনি হয়তো ভারতীয় বোর্ডের কাছ থেকে কিছু জানতে পারবেন।’ অস্বাভাবিক কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতি না ঘটলে এবারও চ্যাম্পিয়নস লিগে দর্শক হয়েই থাকতে হবে বাংলাদেশি দলকে। আর সেই চ্যাম্পিয়নস লিগের মূল টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই চার দেশের চারটি দলকে খেলতে হবে কোয়ালিফাইং রাউন্ড। সেখান থেকে শীর্ষ দুটি দল যোগ দেবে আগেই মূল পর্ব নিশ্চিত করা আটটি দলের সঙ্গে। মূল পর্বে আগে থেকে অবস্থা নিশ্চিত আছে আইপিএলের সেরা তিন, দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার সেরা দুই এবং গতবারের রানার্সআপ ত্রিনিদাদ ও টোবাগো। পরে দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে তারা মূল আসরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। আর ২০০৯ সালের প্রথম আসরের পরে এবছর তৃতীয়বারের মতো ভারতে ফিরছে ষাট লাখ মার্কিন ডলার প্রাইজমানির টুর্নামেন্টটি। সেই আশায় আছে ঢাকা দলও। তবে তারা অত্যন্ত দুঃখ করে বলেছে যে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার সুযোগ না পেলে তারা ভবিষ্যতে আর এতো ভালো দল করবে না, ‘আমরা একটা ব্যাপার বুঝলাম যে, এই এতো ভালো দল করা, এতো টাকা খরচ করার কোনো অর্থ কারো কাছে নেই। আমাদের ফলাফল যদি শুধু বিপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়াই হয়, তাহলে আগামী বছর থেকে বিপিএলে টিকে থাকার মতো দলই করবো আমরা।’