স্বপ্ন এখন ভালো কলেজ

আপডেট : ০৭ মে ২০১৯, ১৯:২২

এসএসসির ফল প্রকাশের পর সারাদেশে বইছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মিষ্টি খাওয়াচ্ছেন একে-অপরকে। নেচে-গেয়ে আনন্দ প্রকাশ করছেন এখনো। বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের নেচে-গেয়ে আনন্দ প্রকাশ করতেও দেখা গেছে। তবে এখন সবারই স্বপ্ন ও লক্ষ্য ভালো কলেজে ভর্তি হওয়া। এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে ১৭ লাখ                      ৪৯ হাজার ১৬৫ জন শিক্ষার্থী। কিন্তু একাদশ শ্রেণিতে দেশের আট  হাজারেরও বেশি কলেজে আসনসংখ্যা প্রায় ২১ লাখ। ফলে সব শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও এক-তৃতীয়াংশ আসন ফাঁকা থাকবে। তবে আসনের কোনো সংকট না থাকলেও অভাব মানসম্মত কলেজের। মানহীন কলেজের ভিড়ে সংকটে  রয়েছে এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থীরা। এমনকি জিপিএ-৫ পেয়েও ভালো কলেজে ভর্তির নিশ্চয়তা নেই। ফলাফলের আনন্দের মধ্যেও অভিভাবকদের এখন একটাই দুশ্চিন্তা, তার সন্তানকে একটি ভালো কলেজে ভর্তি করাতে পারবেন তো?

জানতে হবে তারিখগুলো

কলেজে ভর্তির জন্য আগামী ১২ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত অনলাইন ও টেলিটক মোবাইল থেকে এসএমএস করে আবেদন করা যাবে। যারা ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করবেন, তাদেরকেও এই সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে। ২৪ থেকে ২৬ মের মধ্যে শিক্ষার্থীদের আবেদন যাচাই-বাছাই ও আপত্তি নিষ্পত্তি করা হবে। পুনঃনিরীক্ষণে যাদের ফল পরিবর্তন হবে, তারা ৩ থেকে ৪ জুন পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। আর কলেজের পছন্দক্রম পরিবর্তন করা যাবে ৫ জুন থেকে। ১০ জুন প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে। প্রথম তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীদের ১১ থেকে ১৮ জুন সিলেকশন নিশ্চয়ন (যে কলেজের তালিকায় নাম আসবে ওই কলেজেই যে শিক্ষার্থী ভর্তি হবেন তা এসএমএসে নিশ্চিত করা) করতে হবে। ২১ জুন দ্বিতীয় পর্যায়ে এবং ২৫ জুন তৃতীয় পর্যায়ের ফল প্রকাশ করা হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ের তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীরা ২২-২৩ জুন সিলেকশন নিশ্চয়ন এবং তৃতীয় পর্যায়ে তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীদের ২৬ জুন সিলেকশন নিশ্চয়ন করতে হবে। ২৭ থেকে ৩০ জুন শিক্ষার্থী ভর্তি শেষে আগামী ১ জুলাই ক্লাস শুরু হবে।

বিভাগ পরিবর্তনের জন্য

বিজ্ঞান শাখা থেকে উত্তীর্ণরা যে কোনো বিভাগে ভর্তি হতে পারবে। মানবিক শাখা থেকে উত্তীর্ণরা মানবিকের পাশাপাশি ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ভর্তি হতে পারবে। ব্যবসায় শিক্ষায় শিক্ষার্থীরা ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগে ভর্তি হতে পারবে। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে সমান জিপিএ প্রাপ্তদের মেধাক্রম সাধারণ গণিত, উচ্চতর গণিত অথবা জীববিজ্ঞানে প্রাপ্ত জিপিএ বিবেচনায় আনা হবে। এরপরেও একই নম্বরপ্রাপ্তদের শিক্ষার্থীদের ভর্তির বিষয়ে সুরাহা না এলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে প্রাপ্তনম্বর বিবেচনায় আনতে হবে। আর মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে সমান জিপিএ প্রাপ্তদের ভর্তির ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলায় অর্জিত গ্রেড পয়েন্ট বিবেচনা করা হবে। এক বিভাগের প্রার্থী অন্য বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে মোট গ্রেড পয়েন্ট একই হলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ে অর্জিত পয়েন্ট বিবেচনায়  আনতে হবে।

যাদের যতো কোটা

‘বিভাগীয় এবং জেলা সদরের কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কলেজের শতভাগ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে যা মেধার ভিত্তিতে নির্বাচন করা হবে। মেধার ভিত্তিতে ভর্তির পরে যদি বিশেষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কোনো আবেদনকারী থাকে, তাহলে মোট আসনের অতিরিক্ত ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য, ৩ শতাংশ বিভাগীয় ও জেলা সদরের বাইরের শিক্ষার্থীদের জন্য, ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী এবং স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পদের সদস্যদের সন্তানদের জন্য, শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য এবং শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ প্রবাসীদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। তবে উপযুক্ত কোটায় যদি প্রার্থী পাওয়া না যায়, তবে এ আসন কার্যকর থাকবে না।