ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) সর্বদাই মুখরিত থাকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পদচারণায়। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় যেন প্রাণের উল্লাসে বয়ে চলা চির যৌবনা খরস্রোতা এক নদী, যে নদী বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে যুগের পর যুগ ক্লান্তিহীনভাবে ছুটে চলছে আপন গতিতে। এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যেমন রয়েছে বর্ণিল ইতিহাস, তেমনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসেরও রয়েছে বিচিত্র রূপ; যা পাল্টে যায় ক্ষণে ক্ষণে সময়ের আবর্তনে।
দিনের সকল কর্মব্যস্ততাকে ছুটি দিতে নিঃশব্দে আগমন হয় রাতের। কিন্তু ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস জেগে উঠে নতুন সাজে, নতুন রূপে। শুরু হয় নতুন ব্যস্ততা। শুরু হয় ভিন্ন ধরনের ছুটে চলা। জ্বলে উঠে নিয়ন বাতির আলো। যে আলো চোখ ঝলসে না দিয়ে বৃক্ষের শাখা-পল্লবের সাথে মেতে উঠে আলো-আঁধারি খেলায়। দিনের বেলা শিক্ষার্থীরা ব্যস্ত থাকে ক্লাস আর পড়াশোনা নিয়ে। কিন্তু সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন চত্বরে তারা হাজির হয়ে মেতে উঠে আড্ডা, গল্প-গানে। রাতের আঁধারকে হার মানিয়ে নতুন কর্মব্যস্ততায় জেগে উঠে ক্যাম্পাস, হয়ে উঠে প্রাণচঞ্চল।
সন্ধ্যায় মানুষের মিলন মেলায় পরিণত হয় ইবির বিভিন্ন চত্বর, প্রাঙ্গণ ও মোড়। প্রাণবন্ত জিয়া মোড় সরগরম হয় নানা জনের পদচারণায়। রাতের আড্ডার প্রধান কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত কেন্দ্রীয় ক্রিকেট মাঠ, গরম চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে শুরু হয় জীবনের গল্প। এ গল্প স্মৃতি রোমন্থনের, সফলতা-ব্যর্থতা, পাওয়া আর না পাওয়ার। আবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে চলে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক।
নানা ব্যস্ততায় অনেকে দিনে খেলাধুলার সময় পায় না। তারা বেরিয়ে পড়ে রাতের বেলা ক্রিকেট বা ব্যাডমিন্টন খেলার জন্য। স্বল্প আলোতেই চলতে থাকে ক্রীড়া উত্সব। এভাবেই হয়তো চলছে ক্যাম্পাসে জীবনের আড্ডা। ক্যাম্পাসের চত্বরগুলো বন্ধুত্বের ভালোবাসায় সিক্ত হোক। বৃষ্টি হোক আর রোদ হোক থেমে থাকবে না আড্ডা। আড্ডা হোক ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা। আড্ডা হোক শিক্ষার্থীদের আনন্দ আর উল্লাসের। জয়তু ক্যাম্পাস আড্ডা।
