বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি)’র কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থী তানজিলা আহমেদ পিংকি। লেখাপড়ার পাশাপাশি সমাজসেবা ও নানা সংগঠনমূলক কার্যক্রম করে থাকে। শুধু তাই নয়, সে বিইউবিটিতে সেরা বিতার্কিক হিসেবে সকলের মাঝে সুপরিচিত। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই বিতর্ক করে আসছে পিংকি। স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেও বিতর্কের সঙ্গে সখ্যতা ছাড়তে পারেনি, বরং আরো পাকাপোক্ত হয়েছে। এজন্যই ‘ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র আয়োজনে জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা ‘ইউসিবি পাবলিক পার্লামেন্ট-২০১৮’ এর চূড়ান্ত পর্বে শ্রেষ্ঠ বক্তার সম্মাননা পেয়েছে পিংকি।
ছোটবেলা থেকে বিতর্ক করে আসা তানজিলা আহমেদ পিংকি স্কুল পর্যায়ে মূলত সনাতন পদ্ধতিতে আর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সংসদীয় বিতর্ক করেছে। দুটি পদ্ধতি পুরোপুরি আলাদা। বিইউবিটির ডিবেট ক্লাবের সক্রিয় সদস্য সে। প্রতি সপ্তাহে ক্লাসের ব্যস্ততা ফেলে বিতর্ক অনুশীলন করে। নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে তার ওপর ক্লাবের বিতার্কিক দল দুই ভাগে ভাগ হয়ে বিতর্ক করে। এভাবেই বিইউবিটির বিতার্কিক দলের সাথে প্রস্তুতি সেরে পিংকি নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকদের সঙ্গে তর্কযুদ্ধে। তার বক্তব্য সকলকে মুগ্ধ করে।
নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিবেট ক্লাবের প্রসঙ্গ টেনে তানজিলা আহমেদ পিংকি বলে, ‘খুব ছোটবেলায় বিতর্কে হাতেখড়ি হলেও পদ্ধতিগতভাবে ভিন্নতা রয়েছে প্রতি পর্যায়ে। বলা চলে এখনো শিখছি নতুন কিছু। স্কুলে সনাতন পদ্ধতিতে বিতর্কের মাধ্যমে ভিত্তি তৈরি হয়েছে; কিন্তু সংসদীয় বিতর্ক শিখেছি বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে। আমি প্রথম বর্ষ থেকেই বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি)’র ডিবেট ক্লাবের সদস্য। এখানেই প্রতিনিয়ত শিখছি নতুন অনেক কিছু।’
শুধু পিংকিই নয়, এখানে বিতর্ক নিয়ে দিন-রাত পড়ে থাকা শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম নয়। তর্কযুদ্ধে নামতে ভালোবাসে, এমন কিছু বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণ-তরুণী বছরজুড়ে নিজের দলের হয়ে লড়েছে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। নিজেদের পড়াশোনার পাশাপাশি চর্চা চালিয়ে যাওয়া খুব একটা সহজ বিষয় নয়, তবে এ কাজটিকে ঘিরে যদি থাকে ভালো লাগা, তাহলে খুব কষ্টের কিছুও নয় বলেই মনে করে বিতার্কিক পিংকি। সে বলে, ‘আসলে এমনও অনেক হয়েছে যে পরীক্ষা চলছে এর মধ্যে কোনো বিতর্ক প্রতিযোগিতার সেমি ফাইনাল কিংবা ফাইনাল পর্বের জন্যও প্রস্তুত হতে হয়েছে। সেক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা বাড়তি কষ্ট করতে হয়েছে। কিন্তু যেহেতু বিতর্ক আমার কাছে ভালো লাগার বিষয়, তাই কখনো কষ্ট বোধ করিনি।’
বিতর্কে আগ্রহী অনেকের মনেই হয়তো প্রশ্ন জাগবে, তাহলে ভালো বিতার্কিক কিংবা শ্রেষ্ঠ বক্তা হতে হলে কী কী অনুসরণ করা উচিত? এমন প্রশ্ন করা হয়েছিল জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা ‘ইউসিবি পাবলিক পার্লামেন্ট-২০১৮’ এর শ্রেষ্ঠ বক্তা পিংকির কাছে। সে বলে, ‘শুনতে হবে, শোনার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। একজন ভালো শ্রোতা একজন ভালো বক্তা হতে পারে। অন্যদিকে প্রচুর পড়াশোনা করতে হয়, তথ্য জমা করতে হয়। কেননা, ভালো বলতে হলে অনেক কিছু জানতেও হয়।’
দীর্ঘদিন বিতর্কের সঙ্গে সম্পৃক্ততা পিংকির কিন্তু এখনো বিতর্কের সময় তার মধ্যে স্নায়বিক উত্তেজনা কাজ করে। শেষবারের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে সে বলে, ‘জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা ‘ইউসিবি পাবলিক পার্লামেন্ট-২০১৮’ তে সরকার দলীয় হয়ে বিতর্কে অংশগ্রহণ করে আমাদের দল। সে দলের নেতা ছিলাম আমি। সে সময় স্পিকার যখনই বললেন, এখন প্রস্তাব উত্থাপন করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, তখন সত্যিকার অর্থে আমার হাত-পা কাঁপা শুরু হয়। যা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়। তবে বিতর্ক চলাকালীন ৩৫ মিনিট মনোযোগ ধরে রাখতে হয়, কে কী বলছে সব শুনতে হয়। অন্যথায় আমি কিন্তু প্রতিপক্ষকে যুক্তি দিয়ে আটকাতে পারব না কোনোভাবেই।’
