ছাদ ফুঁড়ে নেমে আসছে আলো। জানালা গলে দৃষ্টি চলে যায় দূর বহুদূর। একদিকে নিউজউইক, স্টারডাস্ট, জিওগ্রাফিসহ বিভিন্ন পত্রিকা রাখা। সারাক্ষণ মিউজিক সিস্টেমে বাজছে গান। এরই মধ্যে ভোজনরসিক ও আড্ডাপ্রেমীদের কাছে পরিচিত একটি নাম হয়ে উঠেছে স্মোক। ঢাকার বনানী ১১ নম্বর রোডের মূল সড়কের ওপরেই সাত তলা এক বাড়ির ছাদে গড়ে উঠেছে খাবারের দোকান স্মোক। স্মোক কফি তৈরির জন্য উন্নতমানের সামগ্রী ব্যবহার করে থাকে। পিজ্জাও তৈরি করা হয় মেশিনে। মূলত মেক্সিকান ও ইতালিয়ান খাবারের ওপর জোর দিলেও রেসিপিগুলো নিজেদের মতো করে অদল-বদল করে নিয়েছে স্মোক। এখানকার বিশেষ কোন খাবারটার কথা জোর দিয়ে বলতে চান? আশরাফুল করিম বলেন, ‘ক্রেতাদের মতে আমাদের বার্গার খুব সুস্বাদু।’ রয়েছে এখানে আড্ডা আর খাওয়ার পাশাপাশি চাইলে পার্টিও করতে পারবেন। এ ছাড়া বিভিন্ন করপোরেট অনুষ্ঠানে খাবার সরবরাহ করা হয় বলে জানান কর্তৃপক্ষ। কথা শেষে জানতে চেয়েছিলাম স্মোকের ভিন্নধর্মী নাম আর তাদের অন্দরসাজ সম্পর্কে। জানা গেল অন্দরের পরিকল্পনাটা ওমর ফারহানের নিজেরই। বিদেশে একাধিক রেস্তোরাঁ পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা থেকেই তারা এই ধরনের খোলামেলা এক পরিবেশ তৈরি করেছেন। রাত হলে নগরীর সাথে সাথে স্মোকেও নেমে আসে ভিন্ন এক নীরবতা, আলো-আঁধারীতে অন্য এক রূপ নেয় স্মোক। আর নামটাও খাবারের উষ্ণতার সাথে সম্পর্ক রেখেই।
এখানে কফির মধ্যে আছে হরেক রকম। পাবেন ৮৫-১২৫ টাকায়। আর একটু বিশেষ স্বাদের কফির মধ্যে আছে এক্সপ্রেসো ক্রিয়েশনস ৯৫-১৬৫ টাকা, কফি অল্টারনেটিভ ৬৫-২৫৫ টাকা, ফ্রেজার ব্লেন্ডেড ২০৫-২৬৫ টাকা। আরও পাবেন মকটেল ২৭৫-৩০৫ টাকা, স্মুদি ৩০৫-৩১৫ টাকা এবং স্লাশ ১৩৫-১৭৫ টাকা। এর প্রতিটি ভাগে আছে আবার আট-দশ পদের ভিন্নতা। বার্গারের কথা বলতে গিয়ে জিভে জল এসে পড়ছে। ১২ পদের পিজ্জাও আছে এখানে। পড়বে ৪০৫-৮৬৫ টাকা। সঙ্গে স্টেক খেতে পারবেন ৫৫৫-৫৮৫ টাকায়। স্প্যাগেটির দাম পড়বে ২৯৫-৪১৫ টাকা। ফাজিতাসের দাম পড়বে ৬২৫-৬৫৫ টাকা। তবে হালকা খাবার দিয়েও উদরপূর্তি করে নিতে পারেন। স্ন্যাকসের মাঝে ট্যাকো, নাচোস কিংবা বুরিটোস বেশ মুখরোচক। দাম ২৭৫-২৯৫ টাকা। স্যুপ দিয়ে খাবারের শুরু করে নিতে পারেন। দাম ১২৫-১৮৫ টাকা।
চাইলে যেকোনো সময় আপনি বুকিং দিয়ে দিতে পারেন ৬০-৭০ জন বসার মতো এই ক্যাফে। আলোচনার ভিত্তিতেই দরদামটা ঠিক করে নিতে হবে, তবে সেটা একটু আগেভাগেই জানানো চাই।
এক নজরে
প্রতিষ্ঠাতা :ওমর ফারহান ও আশরাফুল করিম
শুরু হয়েছিল :২০১১ সালে
স্থান :বনানী এগারতে হাকাম ফাউন্ডেশনের টপফ্লোরে
সময় :সপ্তাহের সাতদিনই, দুপুর ১২টা থেকে রাত ১২টা
পরিচালক বলেন :শুধু খাবারই নয়, খাবারের আনুষঙ্গিক সব স্পাইসও সরাসরি মেক্সিকো থেকে আনা হয়। পরিবেশটা দারুণ, সেই সাথে রয়েছে পরিবেশনে পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা।
