বা ং লা দে শ গে ম স

কেন এই তড়িঘড়ি আয়োজন!

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৩৮
পৃথিবীর ক্রীড়া ইতিহাসে এমন ঘটনা খুঁজে পাওয়া বোধহয় কঠিন হবে—মাত্র দুই মাস আগে ঘোষণা দিয়ে গেমস আয়োজন করা হচ্ছে! বাংলাদেশে সেটাই হতে যাচ্ছে। সাধারণত দুই বছর অথবা নিদেন পক্ষে এক বছর আগে ঘোষণা করা হয়ে থাকে গেমসের সময়। জানিয়ে দেয়া হয় কবে, কখন শুরু হবে গেমস। সেই পঞ্জিকা মতে ক্রীড়াবিদরা প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন। কারণ একটা গেমসই হচ্ছে একজন ক্রীড়াবিদের জন্য নিজের সেরা পারফরম্যান্স তুলে ধরার সেরা মঞ্চ। কিন্তু বাংলাদেশ গেমসে সেই সুযোগ পাচ্ছেন না ক্রীড়াবিদরা। মাত্র দুই মাস আগে ঘোষণা দিয়ে গেমস আয়োজনে মাঠে নেমে পড়েছেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) কর্মকর্তারা। শনিবার বাংলাদেশ গেমসের অষ্টম আসর বসতে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। এমনিতেই ঝড়ের মাসটা গেমসের জন্য যথোপযুক্ত সময় নয়; গেমস হয় ঠাণ্ডা আবহাওয়ায়। গেমসের আগে ক্রীড়াবিদরা নিজেদের শাণিত করতে দীর্ঘ সময় নেন। এতো তড়িঘড়ি করে কেন এই আয়োজন, এই তড়িঘড়ির ফলে আদৌ ক্রীড়াবিদরা উপকৃত হবেন কি না; এগুলোই এখন আলোচ্য বিষয় ক্রীড়াঙ্গনের। বাংলাদেশ গেমসের স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদও একমত, গেমসের সময় এটা না। তিনি বলেন ‘ফেডারেশনগুলোর মতামতের উপর ভিত্তি করেই গেমস আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’ এ গেমস থেকে খেলোয়াড়রা কতটুকু উপকৃত হবে? তাদের পর্যাপ্ত খাবার ব্যবস্থা নেই, পর্যাপ্ত অনুশীলন হয়নি বলে ক্রীড়াবিদরা হতাশ। তার উপর এমন কাঠফাটা গরমে কিভাবে মাঠে নামবেন। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। নাম না প্রকাশ করার শর্তে একাধিক ক্রীড়াবিদ বলছেন, আরো সময় দিলে তারা আরো প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামতে পারতেন, ‘ঘুম থেকে উঠেই শুনলাম গেমস হবে। আরেকটু সময় পেলে প্রস্তুতিটা ভালো হত।’ হারুনুর রশিদ অবশ্য এই তাড়াহুড়ায় খুব ক্ষতির কিছু দেখছেন না, ‘ফেডারেশনগুলোর মত নিয়ে তিন মাস আগে ঘোষণা দেয়া হয়েছে গেমস আয়োজনের কথাটি। সামনে বৃষ্টির মাস, আসছে রোজা, রয়েছে জাতীয় নির্বাচন। তাছাড়া খেলোয়াড়রা খেলার মধ্যেই ছিল। এক বছর আগে ঘোষণা দিলেই তো কেউ এক বছর অনুশীলন করে না।’ সমস্যা শুধু অনুশীলনের সময়েই নয়; খাবার-আবাসনেও আছে সমস্যা। সাধারণের চেয়ে একজন ক্রীড়াবিদের সুষম খাদ্যের বেশি প্রয়োজন। কিন্তু বিওএ জনপ্রতি দিচ্ছে মাত্র ৪০০ টাকা। এ দুর্মূল্যের বাজারে ৪০০ টাকায় কিছুই হয় না। যাদের জন্য খেলার আয়োজন তারাই উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছেন। কেন? স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ারম্যান বললেন, ‘ক্রীড়াবিদদের জন্য ফেডারেশন থেকেই ৩০০ টাকা চাওয়া হয়েছিল। পরে সেটা বাড়িয়ে ৪০০ টাকা করা হয়েছে।’ বাজেট চূড়ান্ত নয়, তথাপি শোনা যাচ্ছে ২০-২২ কোটি টাকা ব্যয় করে এ আয়োজনে আট কোটি টাকা যাবে শুধু উদ্বোধনী এবং সমাপনী অনুষ্ঠানে। অথচ অ্যাথলেটিক্স, সুইমিংয়ে ব্যবহার হবে হাত ঘড়ি। বিভিন্ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘উদ্বোধনী ব্যয় আরো কমবে জানি। তাছাড়া পৃথিবীর যে কোনো গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই বারো আনা এনার্জি ব্যয় হয়ে থাকে। গেমস হলে খেলোয়াড়রা উপকৃত হবে। একেবারেই হচ্ছিল না। গেমসটা হলে কিছু না কিছু উপকৃত হবেন ক্রীড়াবিদরা।’ তড়িঘড়ি করে বিশাল অংকের অর্থ ব্যয় করে গেমস আয়োজনের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। চার দিকে অর্থের ছড়াছড়ি। বিল ভাউচারে ব্যস্ত অনেকেই। এসব নিয়ে উঠেছে নানা কথা। গেমসের স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘স্বচ্ছতা নিয়ে সারা জীবনই কথা উঠে। আমি এবং আমার সাথে যারা কাজ করছেন সেখানে এক বিন্দু অস্বচ্ছতা থাকবে না।’