মুক্তি পেলেন মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিক

আপডেট : ০৭ মে ২০১৯, ২১:১০

মিয়ানমারে ৫১২ দিন কারাভোগের পর অবশেষে মুক্তি মিললো রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের। গতকাল সকালে ইয়াঙ্গুনের শহরতলীর একটি কারাগার থেকে মুক্তি পান তারা। রোহিঙ্গাদের নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা ভঙ্গের দায়ে দণ্ডিত হয়েছিলেন তারা। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের

গত বছর সেপ্টেম্বরে সাংবাদিক ওয়া লোন (৩৩) ও কিয়াও সোয়ে উকে  (২৯) দোষী সাব্যস্ত করে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাদের এই দণ্ডকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর হামলা আখ্যা দিয়ে মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কড়া সমালোচনা করা হয়েছিল। রোহিঙ্গা নিপীড়নের তথ্য সংগ্রহের সময় গ্রেফতার এই দুই সাংবাদিক বরাবরই নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আসছিলেন। তাদের মুক্তি দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সব দাবি মিয়ানমার সরকার এতদিন উপেক্ষা করে আসছিল। জজ আদালত রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে সাত বছরের সাজা দেওয়ার পর হাই কোর্ট এবং আপিল বিভাগেও তা বহাল থাকে। আপিল বিভাগের ওই রায় আসার মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় দুই সাংবাদিকের মুক্তির খবর এলো। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিবছর বর্ষবরণের মওসুমে মিয়ানমারে প্রেসিডেন্টের ক্ষমায় বিপুল সংখ্যক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়। এ বছর সেই প্রক্রিয়া শুরু হয় এপ্রিল থেকে। এর আওতায় কয়েক হাজার বন্দির সঙ্গে সাংবাদিক ওয়া লোন ও কিয়াও সোকেও মিয়ানমার সরকার মুক্তি দিয়েছে।

দুই সাংবাদিকের মুক্তির জন্য তাদের স্ত্রীরা গত এপ্রিলে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের কাছে আবেদন করেছিলেন। তবে সেখানে অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া হয়নি। মঙ্গলবার সকালে তারা কারাগার থেকে বেরিয়ে এলে বন্ধু, স্বজন আর সহকর্মীরা তাদের স্বাগত জানান। ক্যামেরার সামনে বুড়ো আঙুল তুলে ‘থাম্বস আপ’ দেখিয়ে ওয়া লোন বলেন, তাদের মুক্তির জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যে সমর্থন দিয়ে গেছে, সেজন্য তারা কৃতজ্ঞ। ‘আমার পরিবার, আমার সহকর্মীদের মাঝে ফিরে আসতে পেরে খুব ভালো লাগছে। বার্তা কক্ষে ফিরতে আমার আর দেরি সহ্য হচ্ছে না।’ ২০১৬ সালে রয়টার্সে যোগ দেওয়া সাংবাদিক ওয়া লোন রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন ঘটনার সংবাদ প্রকাশ করেছেন। আর কিয়াও সো ও গতবছর সেপ্টেম্বর থেকে রয়টার্সের প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। ইয়াঙ্গুনে পুলিশ কর্মকর্তাদের এক নৈশভোজের আমন্ত্রণে যাওয়ার পর ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর তাদের গ্রেফতার করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গোপন নথিপত্র ছিল তাদের কাছে।

পরে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রেফতার হওয়ার আগে ওয়া লোন এবং কিয়াও সো ও রাখাইনের সেনা অভিযানের সময় এক গ্রামে ১০ রোহিঙ্গাকে হত্যা করে লাশ পুঁতে ফেলার একটি ঘটনা নিয়ে অনুসন্ধান করছিলেন। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ ও মানবাধিকার সংগঠন দুই সাংবাদিককে গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে তাদের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানালেও মিয়ানমার সরকার তাতে সাড়া না দিয়ে মামলা চালিয়ে যায়। উল্লেখ্য সাহসী সাংবাদিকতার জন্য ওয়া লোন এবং কিয়াও সো ওকে চলতি মাসের শুরুতে সাংবাদিকতার সর্বোচ্চ পুরস্কার পুলিত্জার দেওয়া হয়।