ইস্তাম্বুলে পুনরায় নির্বাচনের ঘোষণায় বিক্ষোভ

আপডেট : ০৭ মে ২০১৯, ২১:১৩

তুরস্কের নির্বাচন কমিশন ইস্তাম্বুলে পুনরায় স্থানীয় নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ায় প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। গত মার্চে ইস্তাম্বুলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিরোধী দলীয় প্রার্থী জয়ী হয়। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের দল একে পার্টি অভিযোগ করেছে ঐ নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছে।

ইস্তাম্বুলের স্থানীয় নির্বাচনে ফের ভোট নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েছে তুরস্কের নির্বাচন কমিশন। মার্চে অনুষ্ঠিত ইস্তাম্বুলের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) প্রার্থী একরেম ইমামোগলু সামান্য ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। সিএইচপির ওই জয়ের পেছনে ‘অনিয়ম ও দুর্নীতি ছিল’ বলে অভিযোগ আনে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একেপি)।

ক্ষমতাসীন দলটির ওই অভিযোগ আমলে নিয়ে নির্বাচন কমিশন ২৩ জুন ফের ভোটগ্রহণের তারিখ ঘোষণা করলে ইস্তাম্বুলজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে বলে জানিয়েছে বিবিসি। সোমবার শহরটির বেশকিছু এলাকায় হাজার হাজার বাসিন্দা রাস্তায় নেমে, বিভিন্ন পাত্র ও হাঁড়ি পাতিল বাজিয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দেয়। নির্বাচন কমিশনের এ সিদ্ধান্তকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন সিএইচপির ইমামোগলু। পুনঃনির্বাচনের এ ঘোষণার ফলে তুরস্কের গণতান্ত্রিক নির্বাচন ব্যবস্থা বিশ্বাসযোগ্যতা হারাতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট।

৩১ মার্চ তুরস্কজুড়ে হওয়া স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে একেপি পার্টি নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট ৫১ শতাংশ ভোট পেলেও রাজধানী আঙ্কারা, ইজমির ও ইস্তাম্বুলের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো ধর্মনিরপেক্ষ সিএইচপির কাছে হাতছাড়া হয়ে যায়। দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানও একসময় ইস্তাম্বুলের মেয়র ছিলেন। ওই নির্বাচনে ৮০ লাখ ভোট পড়েছিল এবং সিএইচপির ইমামোগলুকে ১৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল একেপি পরে নির্বাচন কমিশনের কাছে ইস্তাম্বুল ও আঙ্কারার ফলাফলে আপত্তি জানায়। ক্ষমতাসীনরা এ আপত্তির মাধ্যমে নির্বাচনের ফল ‘চুরি করে নিয়ে যাওয়ার’ চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের।

নির্বাচন কমিশনে একেপির প্রতিনিধি রিসেপ ওজিল জানান, মার্চের নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তিদের কেউ কেউ সরকারি কর্মকর্তা না হওয়ায় এবং ফলাফলের কিছু কাগজে স্বাক্ষর না থাকায় ফের ভোট নেওয়ার এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্যদিকে সিএইচপির সহকারী চেয়ারপারসন ওনুরসাল আদিগুজেল বলেছেন, পুনঃনির্বাচনের সিদ্ধান্ত এটাই দেখাচ্ছে যে- ‘একেপির বিরুদ্ধে জেতা অবৈধ’। নির্বাচন কমিশনের এ সিদ্ধান্তকে ‘পুরোপুরি একনায়কতন্ত্র’ হিসেবেও অভিহিত করেছেন তিনি। টুইটারে তিনি বলেছেন, “জনগণের ইচ্ছার ওপর চাপিয়ে দেওয়া এবং আইন উপেক্ষা করার এ ব্যবস্থা না গণতান্ত্রিক, না বৈধ।”