সিরিয়ায় সংঘর্ষে নিহত ৪৩

আপডেট : ০৭ মে ২০১৯, ২১:১৬

সিরিয়ার উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষে ৪৩ জন নিহত হয়েছে। অঞ্চলটিতে সরকারি সৈন্য ও তাদের মিত্র রুশ বাহিনী গত কয়েকদিন ধরে ব্যাপক বোমা হামলা চালাচ্ছে।

সরকারি বাহিনী ওই অঞ্চলের দুটি গ্রাম ও একটি কৌশলগত পাহাড়চূড়ার দিকে অগ্রসর হলে এই সংঘর্ষ ঘটে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বিদ্র্রোহীরা রাশিয়ার বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালায়। তবে সেগুলো আকাশেই ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই হামলায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি। ব্রিটেনভিত্তিক পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস সোমবার বলেছে, দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় হামা প্রদেশে ভয়াবহ এই লড়াইয়ে ২২ জন সরকারপন্থি যোদ্ধাও নিহত হয়েছে। সংস্থাটি আরো জানায়, সংঘর্ষে আল-কায়েদার সাবেক সিরীয় শাখা হায়াত্ তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) ও এর মিত্র তুর্কিস্তান ইসলামিক পার্টির সদস্যসহ ২১ জিহাদি নিহত হয়েছে।

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা বলেছে, সিরীয় সৈন্যরা উত্তরাঞ্চলীয় হামা ও পার্শ্ববর্তী ইদলিবে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ঘাঁটি ও সরবরাহ পথে অভিযান চালায়। গত মাসে এইচটিএস অধিকৃত অঞ্চলটিতে বোমা হামলা জোরদার করা হয়। এর ফলে নতুন করে স্থানীয়দের বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটে। অবজারভেটরি জানায়, এর আগে সোমবার ইদলিব ও এর আশপাশের এলাকাগুলোতে সিরীয় সরকারি বাহিনী ও তাদের রুশ মিত্রদের গোলা বর্ষণ ও বিমান হামলায় পাঁচ বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। ইদলিবে এএফপির এক আলোকচিত্রগ্রাহক সামপ্রতিক হামলায় কয়েকটি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যেতে দেখেছেন।

এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বেসামরিক লোকদের রক্ষায় অস্ত্রবিরতি মেনে চলার জন্য যুদ্ধরত সকল পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গুতেরেস ‘পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে অবিলম্বে পরিস্থিতির উন্নতি এবং ২০১৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত অস্ত্রবিরতি চুক্তি সম্পূর্ণভাবে মেনে চলার জন্য সকল পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।’ সোমবার আন্তর্জাতিক শরণার্থী বিষয়ক এনজিও রিফিউজিস ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাস থেকে সিরিয়ায় হামলার কারণে ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি বেসামরিক লোক তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছে। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, ‘যদি এই লোকদের রক্ষার জন্য কিছু করা না যায় তবে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ঠেকাতে জরুরি অবস্থা গ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।’