রায়পুরা উপজেলার কলু সমপ্রদায়দের এখন চলছে চরম দুর্দিন। কালের বিবর্তনের সাথে পাল্লা দিয়ে এ সমপ্রদায় আজ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। উপজেলার শ্রীরামপুর, রাধাগঞ্জ, মির্জাপুর, পীরপুর, শিবপুর,চরাঞ্চলের কাচারীকান্দি, মিরেরকান্দী এসব এলাকায় বেশিরভাগ লোকজন পূর্বপুরুষ থেকে পেশা হিসেবে নিয়ে গরু, ঘোড়া এবং কোন কোন সময় গরু ঘোড়ার পরিবর্তে মানুষ দিয়ে নিজেরাই ঘানি টেনে সরিষা, বাদাম দিয়ে তেল ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতো। এতে ভালভাবে তাদের সংসারের খরচ চালিয়ে দুর্দিনের জন্য সঞ্চয় করতে পারতো। উপজেলার মিরেরকান্দী গ্রামের দু’টি পরিবার এখনো এ পেশাটাকে আঁকড়িয়ে ধরে আছেন। তবে আগের তুলনায় এখন আর কাজের ব্যস্ততা নেই। মিরেরকান্দী এলাকার মোঃ তাজু মিয়া, লালচান মিয়া বলেন, দীর্ঘ ৪০ বছর যাবত্ আমি এ পেশায় জড়িয়ে আছি। কিন্তু এখন আর আগের মতো পোষায় না। আগে এক কেজি সরিষার দাম ছিল ১৫/২০টাকা। এখন এক কেজি কিনতে হচ্ছে ৪০/৫০টাকায়। সবমিলিয়ে একসময় এটাকে পেশা হিসেবে নিয়েছিলাম কিন্তু এখন এটাকে পেশা হিসেবে নিলে সংসার চলে না। তাই পাশাপাশি অন্য কোন পেশায় বাধ্য হয়ে জড়িত হতে হচ্ছে। বিদ্যুতের ছোঁয়ায় পাল্টে গেছে সবকিছু। যেসব এলাকায় একসময় গরু, ঘোড়া এবং মানুষের সাহায্যে এ ঘানি টানা হতো সেসব অনেক এলাকায় চলে আসছে বিদ্যুত্। ফলে বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছে সেই চির চেনা ঘানি টানার দৃশ্য।
