মানিকগঞ্জের ঘিওরে পানি পাগলীর কথিত মাজারকে ঘিরে শুরু হয়েছে জমজমাট ব্যবসা। অবৈধ ওই মাজার উচ্ছেদের দাবিতে সম্প্রতি ঘিওরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে এলাকার ধর্মপ্রাণ মানুষ। একাধিক সূত্র জানায়, মাস খানেক আগে ঘিওর উপজেলার বৈলতলা গ্রামের কালীগঙ্গা নদীর পানিতে পাওয়া যায় অজ্ঞাত এক কিশোরীর মৃতদেহ। স্থানীয়রা ওই কিশোরীর মৃতদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ মৃতদেহটি ময়না তদন্ত না করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কবর দিতে বলেন। পুলিশের কথামত স্থানীয় ইউপি সদস্য কিতাব আলীর নেতৃত্বে তাকে কবর দেয়া হয়। তাকে কবর দেয়ার সময় মুসলিম বা হিন্দু কোন রীতিই অনুসরণ করা হয়নি। পরে তার কবরে গায়েবানা জানাযা পড়ানো হয়। সেইসাথে করা হয় কুলখানিও। মেয়েটির মৃত্যুর দু’তিনদিন পর এলাকায় গুজব ওঠে ওই কবরের মাটি গায়ে মাখলে এবং যেখানে তার মৃতদেহ পাওয়া গেছে সেখানকার পানি পান করলে যে কোন রোগ ভাল হয়ে যায়। তার কয়েকদিন পর কবরের চারপাশে বেড়া ও লাল কাপড় দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়। নামকরণ করা হয় পানি পাগলীর মাজার।
ইউপি সদস্য কিতাব আলী জানান, প্রায় দু’মাস আগে এই গ্রামে ১১/১২ বছরের ওই কিশোরীকে দেখা যায়। তাকে দেখে মানসিক ভারসাম্যহীন বলেই মনে হয়েছে। মেয়েটিকে কবর দেয়ার পর কয়েকজন স্বপ্নে দেখে ওই কবরের মাটি ও সেখানকার পানি পান করলে রোগ ভাল হয়ে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন গ্রামবাসী জানায়, মেয়েটি ছিল পাগল। কোন অসুখে তার মৃত্যু হয়েছে। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কিছু লোক ব্যবসায় নেমেছে। ওই মাজার থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা আয় হচ্ছে। তবে পুলিশ প্রশাসন এটিকে আমলেই নিচ্ছে না।
