চলে গেলেন সুবীর নন্দী

তারকাদের স্মৃতিচারণ...

আপডেট : ০৭ মে ২০১৯, ২১:৩০

বরেণ্য সঙ্গীতশিল্পী সুবীর নন্দী আর নেই।

সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় গতকাল ভোর সাড়ে ৪টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এদেশের সঙ্গীতাঙ্গনে সুবীর নন্দী একজন কিংবদন্তী। কণ্ঠের জাদুতে এদেশের অজস্র ভক্তের মন জয় করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, তাঁর হাত ধরে অনেক সঙ্গীতশিল্পী এদেশের সঙ্গীতাঙ্গনে সম্মানজনক অবস্থায় রয়েছেন। প্রিয় এই মানুষটির চলে যাওয়ায় সঙ্গীতাঙ্গনের তাঁর কাছের অনেকে স্মৃতিচারণ করেছেন শ্রদ্ধেয় এই সঙ্গীতশিল্পীকে নিয়ে—

খুরশীদ আলম

মাঝে যখন শুনলাম সুবীর সুস্থ হয়ে উঠছে তখন দারুণ এক ভালোলাগা ছুঁয়ে গিয়েছিল। সুবীর কিন্তু বয়সে আমার অনেক ছোট। কিন্তু মৃত্যুর কোনো বয়স নেই। কোনো সময় নেই। যখন তখন আসতে পারে। সুবীর যে কী পরিমাণ বড়দের সম্মান করতো সেটা না দেখলে বুঝতে পারবে না কেউ। আমার ক্যারিয়ারে কখনো শুনিনি সে কারো সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছে। একজন বিনয়ী মানুষ ছিল সুবীর। চেহারার মধ্যেও সেই বিনয়ের ছাপ স্পষ্ট। সুবীরের সঙ্গে তো আমার হাজারো স্মৃতি। ওর পান খাওয়ার দৃশ্য এখনো আমার চোখের সামনে ভাসছে। মুখে সবসময়ই পান লেগেই থাকতো। পান খাওয়ার প্রতি যাঁর এত প্রেম সেই পান খাওয়াটাও একদিন ছেড়ে দিলো।

 

রফিকুল আলম

সুবীর নন্দীর সাথে স্মৃতির তো কোনো শেষ নেই। অজস্র সময় আমাদের একসাথে কেটেছে। ১০ থেকে ১২ বছর আগের ঘটনা। তিনি কলকাতা থেকে একটি দামি হারমোনিয়াম এনেছেন। ফোন করে আমাকে বললেন, ‘আপনার বাসায় আসছি। গান হবে।’ আমরাও রাজি হয়ে যাই। দেখি, তিনি সঙ্গে করে নতুন হারমোনিয়ামটা নিয়ে এসেছেন। খুব ভালো হারমোনিয়াম। এই হারমোনিয়াম বাজিয়ে একের পর এক গান করলেন। বাসায় সেদিন দারুণ একটা আবহ তৈরি হয়েছিল।

তপন চৌধুরী

এই মানুষটির সাথে যত মিশেছি ততোই মনে হয়েছে আরো অনেকটা সময় তাঁর সাথে থাকতে হবে। সেই মানুষটির চলে যাওয়া যে ক্ষত তৈরি করেছে তা পূরণ হওয়ার নয়।

 

কবির বকুল

যে মানুষটিকে আমরা হারালাম তাঁর শূন্যতা যে কতটা হয়ে গেল সেটির ব্যাখ্যা দেওয়া কঠিন। সুবীর দা চলে গেলেন। তবে তাঁর ভক্তদের মাঝে এই মানুষটির স্মৃতি আজীবন থাকবে।

 

ফাহমিদা নবী

নানা কথা বলতে গিয়ে সেদিন বলেছিলাম, কাকা একটা ইচ্ছের কথা বলেন তো? একটু আবেগভরা কণ্ঠে তিনি বলেছিলেন, ‘আমার শেষ ইচ্ছে আমার মৃত্যুর পর কেউ যেন না কাঁদে, আমি চাই আমার শবদেহের পাশে সবাই যেন আমাকে গান শোনায়।’ শুধু গান গাইলেই মানুষের মনে জায়গা করা যায় না। বিনয়ী, ধৈর্য্যশীল, রুচিশীল ও নিরহঙ্কারী হতে হয়, সুবীর কাকা তা-ই ছিলেন।

 

দিনাত জাহান মুন্নি

দাদা সিঙ্গাপুর যাওয়ার আগেও হাসপাতালে আমি নিয়মিত যেতাম। সিঙ্গাপুর যাওয়ার পর অপেক্ষায় ছিলাম সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে তিনি ফিরে আসবেন। তাঁর চলে যাওয়া নিয়ে কথা বলতে হবে ভাবিনি। ভালো থাকবেন সুবীর দা।