এসএসসি পরীক্ষার পর এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়ে গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত সবাই চায় চমত্কার পেশাদার হতে। এ জন্য শিক্ষার্থীরা অনেক চিন্তা-ভাবনা করে বিষয় নির্বাচন করে পড়াশোনা করে থাকে। সব ডিগ্রি কর্মক্ষেত্র নিশ্চিত না করলেও চাকরির ক্ষেত্রে এভিয়েশন খাতের গুরুত্ব অপররিসীম। এর মধ্যে কিছু কর্মমুখি আন্তর্জাতিক বিষয় রয়েছে যা এসএসসি’র পরই শুরু করা যায় এবং এটি সম্পন্ন করার পর সহজেই বিশ্বজুড়ে কর্মক্ষেত্র তৈরি হয়ে যায়। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। এটি সম্পন্ন করে সাধারণত এয়ারলাইন্স সেক্টরে চাকরি হয়ে যায়। বিশ্বজুড়ে এয়ারলাইন্স শিল্পে জনবলের চাহিদা বেড়েছে। বাংলাদেশ থেকেও এই শিল্পখাতে অনেকেই যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন দেশে।
অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং হচ্ছে উড়োজাহাজের প্রকৌশলী বা এয়ারক্রাফট মেইনটেইন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার। বিমান প্রকৌশল একটি হাইটেক প্রফেশন, যেখানে পুরো বিশ্বে বাংলাদেশি তরুণ প্রজন্ম সাফল্যের সাথে পেশাদার কর্মকাণ্ডে সমহারে ছড়িয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের এডেক্সেল বোর্ডের আওতায় শিক্ষার্থীরা এই ডিগ্রি সম্পন্ন করে বিশ্বজুড়ে চাকরির সুযোগ নিতে পারে। এ ছাড়া এই কোর্সে বিশ্বের ১৭৩টি দেশে ক্রেডিট ট্রান্সফার করার সুযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা চাইলেই ইংল্যান্ডের কভেন্ট্রি, কিংসস্টোন, স্যালফোর্ড, ক্রেইনফিল্ড প্রভৃতি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্বের যেকোনো দেশের এডেক্সেল অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়ে সহজে চূড়ান্ত বর্ষে ভর্তি হতে পারে। আর সারা বিশ্বে সরকারি-বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই রয়েছে এই পেশায় চাকরির অবারিত সুযোগ। এসএসসি/এইচএসসি, এ-লেভেল/ও-লেভেল পাশ করে এই পেশায় আসা যায়। তবে এ ক্ষেত্রে সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ড থাকা প্রয়োজন। এসএসসি/ও-লেভেলের পর যুক্তরাজ্য সরকার ও জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত ৪ বছরে অনার্স ডিগ্রি করার সুযোগ রয়েছে কলেজ অব এভিয়েশন টেকনোলজিতে যাদের ঠিকানা সেক্টর-১১, রোড-২, বাড়ী-১৪, উত্তরা। ০১৯৩৭১৮২৪৭০ নম্বরে ফোন করেও এখানকার তথ্য জেনে নিতে পারবেন।
অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ১৮ মাস লেভেল-৩ বা এ লেভেল, ১৮ মাস লেভেল-৫ এবং ১ বছর যুক্তরাজ্যে কিংস্টন ইউনিভার্সিটিতে টপ-আপ বিএসসি করতে হবে। এই পেশায় আসতে রয়েছে এনডি এইচএনডি ইন অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং, বিএসসি ইন অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রভৃতি ডিগ্রি। এ বিষয়ে পড়ালেখা করতে খরচও যথেষ্ট কম। ১৮ মাস লেভেল-৩ বা এ লেভেল করতে সর্বমোট খরচ পড়বে তিন লাখ টাকা, ১৮ মাস লেভেল-৫ করতে মোট খরচ পাঁচ লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা এবং ১ বছরের টপ-আপ বিএসসি করতে লাগবে কিংস্টন ইউনিভার্সিটির ১ বছরের টিউশন ফি। তবে টিউশন ফি সেমিস্টার ভিত্তিতে পরিকোশ করতে হবে।
এভাবেই এগিয়ে গেছেন বাংলাদেশের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার বশির আহমেদ। তিনি বর্তমানে সিঙ্গাপুরের চেঙ্গি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে টাইগার এয়ারওয়েজে এয়ারক্রাফট মেইনটেইন্যান্স ইঞ্জিরিয়ার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এই ধারায় সফলতার পথে অনেক দূর এগিয়ে গেছেন আরাফাত রোমিও। এইচএসসি পাশ করে অ্যারোনটক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হয়ে বর্তমানে তিনি আমেরিকার উইসিটা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স করছেন। আবার শোভন আহমেদ পর্তুগালের ইনস্টিটিউট অব সুপরিয়র টেকনিকে অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স পড়ছেন। এইচএসসি শেষ করে তারেক ফয়সাল আসিফ ক্যাটেকে অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব হার্ডফোর্ডশায়ারে অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স করছেন। এভাবে সাফল্যজনক অধ্যায়ে পদার্পণ করেছেন খুলনা বাগেরহাটের নাজমুস সাকিব, যশোরের অনিক মাহমুদ, পটুয়াখালির এনামুল হক, মুন্সিগঞ্জের সুজিত সুত্রধর, ঢাকার মাহদী হাসান, সাদ মোহাম্মদ, মাহদুল আমিন, মিরপুরের শরীফুল হক, নারায়ণগঞ্জের আবু সুফিয়ান মুন্না, পুরান ঢাকার আক্তারুল আলম ফয়সাল, কুমিল্লার ওমর ফারুক, স্কলাস্টিকা থেকে ও-লেভেল করা সৈয়দা আসফিয়া আহসান, মিম বিনতে হাসান, খুলনার কাজি মুসফিকুর রহমান, উত্তরখানের মাকসুদুর রহমানসহ অসংখ্য শিক্ষার্থী। এটি বাংলাদেশে তরুণদের সাফল্যের এক নতুন ধারা হিসেবেই স্বীকৃত হচ্ছে।
