যুগান্তকারী ব্যাটারি তৈরি করলে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষক দল

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৩, ১৯:২৫
প্রযুক্তি বিশ্বের অগ্রগতি গত কয়েক বছরে এতটাই দ্রুত যে তার সাথে তালমিলিয়ে চলা মুশকিল হয়ে পড়েছে। কম্পিউটার, ল্যাপটপ থেকে মোবাইল ফোন কিংবা গাড়ি—সব জায়গাতেই প্রযুক্তির অগ্রগতিটা চোখে পড়ে সহজেই। সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তি পণ্যের ব্যবহার যেমন বেড়েছে, তেমনি সেই সাথে এসব পণ্যের জন্য ব্যাটারির ব্যবহারও বেড়েছে। আর তাই ব্যাটারি নিয়ে গবেষণা থেমে নেই মোটেও। এর আগেও বায়োফুয়েল বা এই ধরনের আরও কিছু গবেষণায় ব্যাটারির আকার এবং আয়ুষ্কালে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন গবেষকরা। তবে এখনও পর্যন্ত সেগুলো গবেষণা পর্যায়েই রয়ে গেছে। চূড়ান্ত আলোর মুখ দেখেনি কোনো প্রকল্পই। তবে এবারে যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক জানিয়েছেন, ব্যাটারির ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসতে সমর্থ তাদের এক প্রকল্প। এখনকার ব্যাটারিগুলোর মতোই সমান ক্ষমতার ব্যাটারি তারা তৈরি করতে পারবেন আরও ছোট আকারে। আর এসব ব্যাটারি আয়ুষ্কাল যেমন বেশি হবে, তেমনি ব্যাটারির চার্জ দিতেও সময় লাগবে কম। ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়ের গবেষক দল এই ব্যাটারি নিয়ে কাজ করছে। তারা জানিয়েছে, ত্রিমাত্রিক ইলেকট্রোড ব্যবহার করে তারা যে ব্যাটারিগুলো তৈরি করতে সক্ষম, তা হবে মাইক্রোব্যাটারি। অর্থাত্, এখনকার ব্যাটারির চাইতে এগুলো আকৃতির দিক থেকে হবে অনেক বেশি ছোট। তবে আকারে ছোট হলেও প্রচলিত ব্যাটারিগুলোর মতোই বা তার চাইতে অনেক বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন হবে এই ব্যাটারিগুলো। আর ব্যাটারি চার্জ করার ক্ষেত্রে এগুলো সহস্রভাগ সময় কম নেবে। গবেষক দল জানিয়েছে, তারা এই প্রথমবারের মতো ব্যাটারির অ্যানোড এবং ক্যাথোড ডিজাইন করেছেন ত্রিমাত্রিকভাবে। মাইক্রোস্কেলে ডিজাইন করা এই অ্যানোড এবং ক্যাথোড প্রচলিত ব্যাটারির অ্যানোড এবং ক্যাথোডের চাইতে সহজেই চার্জ বহন করতে সক্ষম। সাধারণ ব্যাটারিতে অ্যানোড এবং ক্যাথোডের মাঝে চার্জ প্রবাহিত হওয়ার জন্য চার্জকে যতটুকু পথ অতিক্রম করতে হত, নতুন এই ডিজাইনের ফলে চার্জ প্রবাহের দূরত্ব কয়েকগুণ কমে যাবে। আর এর ফলেই এই ব্যাটারি আকারের দিক থেকে অনেক ছোট হয়ে আসবে। এর ফলে ল্যাপটপ কিংবা ট্যাবলেট পিসি বা স্মার্টফোন ডিজাইনের দিক থেকে অনেক পাতলা হয়ে আসবে বলেই ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। শুধু তাই নয়, গাড়ির জন্যও এই ব্যাটারিগুলো তৈরি করা সম্ভব হবে বলে জানান তারা। এখনকার গাড়ির ব্যাটারিগুলোর চাইতে আকারে দশগুণ ছোট হবে মাইক্রোব্যাটারিগুলো।