ফটিকছড়ির মত ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালাতে হবে

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৩৫
গতকাল রাজ-ধানীতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের সমাবেশে নেতারা সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি শিগগির তত্ত্বা-বধায়ক সরকারের দাবি মেনে নেয়া না হয়, তাহলে কঠোর কর্মসূচি দিয়ে সরকারের পতন ঘটানো হবে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ক্ষমতাশীন দলেন নেতারা আলোচনার নামে দেশের জনগণকে ধোকা দিচ্ছে। আর বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, স্বৈরাচারী শক্তি যাতে মাথা চাড়া দিয়ে না উঠতে পারে, সেজন্য সারাদেশে ফটিকছড়ির মতো ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারের উপর সর্বোচ্চ আক্রমণ চালাতে হবে। নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে খোকা বলেন, এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামাতে নেতাকর্মীদের রাজপথে থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার, বিরোধী দলের সব নেতার মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং ইলিয়াস আলীসহ গুম হওয়া সব নেতাকর্মীর সন্ধানের দাবিতে বিকালে নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ের সামনের সড়কে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিকাল সোয়া ৩টায় এই সমাবেশ শুরু হয়। সাদেক হোসেন খোকার সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তৃতা করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ড. আব্দুল মঈন খান, জামায়াতের কেন্দ ীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুফতি ইজ্জত উল্লাহ, এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম-মহাসচিব মিজানুর রহমান মিনু, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, মজিবুর রহমান সারোয়ার, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, জামায়াতের কেন্দ জাফরুল হাসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, ইসলামী ঐক্যজোটের নেতা মুফতি ফয়জুল্লাহ, জামায়াতের ড. রেদোয়ান উল্লাহ শাহিদি, ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল। এছাড়া সমাবেশে ১৮ দলীয় জোটের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এ সরকারকে জনগণ আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তাই এ সরকার স্বৈরাচারী রূপ ধারণ করেছে। তিনি বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে কোন নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। আগামীতে আরো কঠোর কর্মসূচি দিবেন। দেশ ও জনগণকে রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ আন্দোলনে সকলকে শরিক হবার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তৌহিদি জনতাকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে আটকে রাখা হয়েছে। চার বছরে শতাধিক মানুষকে গুম করা হয়েছে। এমকে আনোয়ার সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, ঘরে ঘরে অন্দোলনের দুর্গ গড়ে উঠেছে। তত্ত্বাবধায় সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে সরকার দেশে যে আগুন জ্বালিয়েছে সে আগুনে তারাই পুড়ে মরবে। আন্দোলনের মুখে পালিয়ে যাবার আগে জনগণের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করার আহ্বান জানান তিনি। সাদেক হোসেন খোকা বলেন, যেসব পুলিশ এ সরকারের পদলেহি হয়ে সাধারণ মানুষের উপর গুলি বর্ষণ-নির্যাতন করছে তাদের নাম-ঠিকানা নোট করে রাখা হচ্ছে, তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের আটক রেখে আপনারা নিজে নিজে নির্বাচন করবেন আর আমরা চেয়ে চেয়ে দেখবো তা হবে না। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ ীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, জীবনবাজি রেখে এই স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের পতন ঘটানো হবে। জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে পায়ে গুলি করা হচ্ছে। পায়ে গুলি করে জামায়াত-শিবিরকে দমন করা যায় না। যদি যেতো তাহলে পৃথিবীতে কোনো আদর্শিক সংগঠন টিকে থাকতে পারত না।