প্রায় দু’বছর ধরে সিরিয়া ইস্যুতে দ্বিধা-বিভক্ত থাকার পর মতৈক্যে পৌঁছেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। গত বৃহস্পতিবার দেয়া এক বিবৃতিতে নিরাপত্তা পরিষদ সিরিয়া সরকার এবং বিদ্রোহী উভয়পক্ষকেই সহিংসতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করার আহবান জানিয়েছে। এদিকে বুধবার সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ তার দেশে আল-কায়েদাকে সহায়তার জন্য পশ্চিমাদের চড়া মূল্য দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বিবৃতিতে নিরাপত্তা পরিষদ বলেছে, ‘ক্রমবর্ধমান সহিংসতা পুরোপুরিভাবে অগ্রহণযোগ্য এবং তা জরুরি ভিত্তিতে বন্ধ করতে হবে।’ এতে ব্যাপকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য সিরীয় কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি অন্য সশস্ত্র গ্রুপগুলোকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। এমন এক সময় এই বিবৃতিটি দেয়া হলো যখন জাতিসংঘের মানবিক সাহায্য সংস্থাগুলো নিরাপত্তা পরিষদকে সিরিয়া সীমান্তের অভ্যন্তরে ত্রাণকার্য চালানোর অনুমোদন দেয়ার আহবান জানিয়েছে। তবে নিরাপত্তা পরিষদের এই মতৈক্যের পরেও খসড়া প্রস্তাবটি যাতে পাস না হয় সেজন্য সিরিয়ার মিত্র দেশ রাশিয়া ও চীন তাদের তত্পরতা শুরু করেছে। রাশিয়া অভিযোগ করেছে, সিরিয়ায় বেসামরিক জনগণের দুর্ভোগের জন্য দায়ী বিদ্রোহীরা। এদিকে, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন,তার দেশে আল-কায়েদাকে সহায়তার জন্য পশ্চিমাদের চড়া মূল্য দিতে হবে। বুধবার রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন চ্যানেল আল-আকবরিয়াকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, তার সরকারের পরাজয় সব সমস্যার সমাধান নয়। তিনি আরো বলেন, সিরিয়া সংঘাতের মূলে রয়েছে বিদেশি ষড়যন্ত্র। সিরিয়া সংঘাত জর্ডানেও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্কবাণী করেছেন আসাদ। তিনি বলেন, দেশের বাইরে অবস্থান করা বিরোধীদের সঙ্গে কোন আলোচনা হতে পারে না।
সিরিয়ার স্বাধীনতা দিবসের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেয়া সাক্ষাত্কারে আসাদ বলেন, ‘প্রথমদিন থেকেই সিরিয়ায় যা হচ্ছে তা বিদেশিদের নির্দেশেই হচ্ছে।’ জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, প্রায় দু’বছর আগে সিরিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর সহিংসতায় এ পর্যন্ত ৭০ হাজারেরও বেশি লোক নিহত হয়েছে।
