প্রকৃতির সুইপার বলে পরিচিত শকুন পশ্চিমের ৫ জেলা থেকে বিলুপ্তির পথে। এখন আর আকাশে দলবেঁধে শকুন উড়তে দেখা যায় না। পাখিকুলের মধ্যে শকুন দীর্ঘজীবী। শকুনের গড় আয়ু একশ’ বছর। কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও মাগুরা জেলা এলাকাতে পঞ্চাশ বছর আগেও বিপুলসংখ্যক শকুনের দেখা মিলত। শুকুনের প্রধান খাদ্য মৃত প্রাণীর দেহ। আগে গ্রামে নানান রোগ-ব্যাধিতে গবাদিপশু মারা যেত। মৃত পশু লোকে ভাগাড়ে বা নদীর চরে ফেলে দিত। আর শকুন ঝাঁকবেঁধে উড়ে এসে মৃত পশুর দেহ খেত। কখনও নীল ঊর্ধ্বাকাশে দলবেঁধে উড়তে দেখা যেত। এখন এ অঞ্চলে কদাচিত্ শকুনের দেখা মেলে। শকুন উঁচু গাছে বাসা বেঁধে ডিম পাড়ত। ডিম ফুটে বাচ্চা হলে অন্যত্র উড়ে যেত। প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞ মেজর (অব.) ডা. মেহেরুন হাসান বলেন, ডেক্সামেথারসন নামে একটি ওষুধ গবাদিপশুর চিকিত্সায় অতিমাত্রায় ব্যবহার শকুন বিলুপ্তির প্রধান কারণ। এ ওষুধের কিয়দংশ গবাদিপশুর দেহে থেকে যায়। ওই গবাদিপশু মারা গেলে তার মাংস খেলে শকুন মারা যাবে বলে তিনি জানান। বর্তমানে অবশ্য এ ওষুধ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শকুনের প্রখর হজমশক্তি। প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় শকুনের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, শকুন ৪ -৫ কিলোমিটার উপর থেকে নিখুঁতভাবে খাবারের অবস্থান চিহ্নিত করতে পারে। গিন্নী শকুন দলপতি । গলার কাছে লাল রংয়ের গিন্নী শকুন শিকার স্পর্শ না করলে অন্য শকুন খাবার স্পর্শ করে না। এরা শৃংখলাবদ্ধ প্রাণী। ডা. মেহেরুন হাসান জানান, আগে একশ’ কিলোমিটারের মধ্যে কয়েকশ’ শকুনের দেখা মিলত। বুধবার শকুনের উপর একটি সমীক্ষা চালাতে একশ’ ৫৫ কিলোমিটারের মধ্যে একটি মাত্র শকুনের দেখা পান বলে জানান।
