রাজশাহীতে তরুণীর নেতৃত্বে অটো ছিনতাই সিন্ডিকেট!

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৫১
খুলনার তরুণী মাহফুজা আকতার মনি। বছরখানেক আগে সেলিম নামের এক যুবককে স্বামী পরিচয় দিয়ে রাজশাহীর পদ্মা তীরের জাহাজঘাট এলাকায় বাড়ি ভাড়া করেন। এরপর তারা রাজশাহী মহানগরীতে যাত্রী সেজে অটোরিকশা ছিনতাই শুরু করেন। এই সময়ের মধ্যে তারা গড়ে তুলেন অটোরিকশা চুরির বিশাল সিন্ডিকেট। বাড়ানো হয় সদস্যসংখ্যাও। এই সিন্ডিকেটের ২৫ সদস্য রাজশাহীতে অটোরিকশা ছিনতাই করে চলেছে। সম্প্রতি রাজশাহী মহানগর ডিবি পুলিশের হাতে আটক মাহফুজা এ তথ্য দিয়েছেন। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী পুলিশ বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে এই সিন্ডিকেটের আরো ৭ সদস্যকে আটক এবং ছিনতাই হওয়া ৩টি অটোরিকশা উদ্ধার করেছে। মহানগর ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন জানান, ছিনতাইয়ের শিকার এক অটোরিকশা চালকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ডিবি পুলিশের একটি দল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নগরীর তালাইমারী এলাকায় অবস্থান নেয়। সেখান থেকে পুলিশ মাহফুজা ও তার সহযোগী পলাশকে আটক করে। তাদের তথ্যানুযায়ী বাদশাকে এবং পরে আরো চারজনসহ মোট সাতজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যরা হলো রুনি বেগম, মেহেদী হাসান রাব্বী, উজ্জল ইসলাম ও মুন্না। ওসি জানান, প্রথম তিনজন জিজ্ঞাসাবাদে অটোরিকশা ছিনতাই সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। তাদের তথ্যানুযায়ী অটোরিকশা ছিনতাইচক্রের প্রধান মাহফুজা। তার নেতৃত্বে ২৫ জনের সিন্ডিকেট রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অটোরিকশা ছিনতাই করে। ছিনতাইয়ের কৌশলও বেশ সহজ। তারা পুলিশকে বলেছে, যাত্রীবেশে গাড়িতে চড়ার পর প্রথমে ঘোরাঘুরির এক পর্যায়ে ফাঁকা রাস্তায় কখনো কৌশলে আবার কখনো চালককে শারীরিকভাবে আঘাত করে অটোরিকশা ছিনতাই করা হতো। একেক গ্রুপে ৫/৭ সদস্য কাজ করে। তবে ছিনতাই করা অটোরিকশা বিক্রির টাকার ভাগ পেত চক্রের সবাই। এদিকে অটোরিকশা ছিনতাইচক্রের সদস্যদের আটকের খবর পেয়ে অর্ধশত ভুক্তভোগী অটোচালক ও মালিক শুক্রবার মহানগর ডিবি কার্যালয়ে ভিড় করেন। কয়েক চালক মাহফুজা ও পলাশকে শনাক্ত করেন। শিরোইলের অটোচালক রহমান বলেন, মহানগরীর কাজলা থেকে ওঠার পর মাহফুজা তাকে কোক পান করতে দেন। কিছুক্ষণ পর তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। জ্ঞান ফিরে নিজেকে হাসপাতালে আবিষ্কার করেন। তার অটোরিকশা এখনো পাওয়া যায়নি। এই চক্রটি মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অটোরিকশা চালক হত্যায় জড়িত বলে পুলিশ সন্দেহ করছে। তাদের আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে।