খননের পর আবারও দখলে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে কিশোরগঞ্জের নরসুন্দা নদী।
একসময় নরসুন্দা নদী প্রবল খরস্রোতা ছিল। অর্ধশত বছর আগেও কিশোরগঞ্জ শহরের বিভিন্ন ঘাটে এসে ভিড়তো পণ্যবাহী নৌকা। সেসময় নদীপথই ছিল পণ্য পরিবহনের অন্যতম মাধ্যম। কিন্তু সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় নৌ-পথের গুরুত্ব কমতে থাকে। আর পলি জমে নদীর নাব্যও ক্রমশ: কমতে থাকে। একদিকে প্রাকৃতিকভাবে নরসুন্দা নদী ভরাট হয়ে যাওয়া অপরদিকে নদীর দুই পাড় দখল করে প্রভাবশালী মহল বিল্ডিং নির্মাণ করায় নদী সংকুচিত হতে হতে সরু খালে পরিণত হয়।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনতে নরসুন্দা নদী খনন এবং কিশোরগঞ্জ শহরকে দৃষ্টিনন্দন করতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে শত কোটি টাকা ব্যয়ে ‘কিশোরগঞ্জ জেলার নরসুন্দা নদী পুনর্বাসন ও পৌরসভা সংলগ্ন এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প’ নামে সরকার একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নেয়। একনেক প্রথমে ৬৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয়। রাজধানীর লেকসিটির অনুকরণে তত্কালীন এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ২০১২ সালে ওই কর্মযজ্ঞের উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে বরাদ্দ উন্নীত হয় ১১০ কোটি টাকায়। ওই প্রকল্পের আওতায় নরসুন্দা সংস্কার, খনন, উন্নয়ন আর লেকসিটি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। সেসময় ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে নরসুন্দা নদীর দুই তীরের বহু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। শহরের ভেতর নদীর ওপর নির্মাণ করা হয় বেশ কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন সেতু। কিন্তু পরবর্তীতে সুষ্ঠু তদারকির অভাবে প্রকল্পের সৌন্দর্য ক্রমশ: হারিয়ে যাচ্ছে। আবারও প্রভাবশালী মহল নদীর বিভিন্ন জায়গায় কোথাও মাটি বা বর্জ্য ফেলে, কোথাও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, আবার কোথাও বাগান বানিয়ে গাছপালা রোপণ করে দখলের পাঁয়তারা করছে। নদীটি যেন আবার ময়লা-আবর্জনা ফেলার ভাগাড় এবং মশক প্রজনন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহমুদ পারভেজ জানান, নরসুন্দা নদী পরিষ্কার করার স্কিম হাতে নেয়া হয়েছে। শিঘ্রই কাজ শুরু করা হবে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ব্যাপারে তিনি জানান, এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। রমজানের পরে ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দুলাল চন্দ্র সূত্রধর জানান, কেউ যদি অবৈধভাবে মাটি ভরাট করে নদী দখলের চেষ্টা করেন, তিনি যতো ক্ষমতাবানই হোন, উচ্ছেদ করা হবে।
