শিলাইদহের রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি আজ থেকে বসছে তিনদিনব্যাপী বৈশাখী মেলা

আপডেট : ০৭ মে ২০১৯, ২২:০৭

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে আজ থেকে বসছে তিনদিনব্যাপী বৈশাখী মেলা। তাঁর সাহিত্য ভাবনা এবং অনন্য সৃষ্টিতে এই কুঠিবাড়ির রয়েছে বিশেষ অবদান।

ঠাকুর পরিবারের জমিদারি পরিচালনার জন্য এখানে এসে তিনি ভালোবেসেছিলেন ছায়াঘেরা নিভৃত পল্লী শিলাইদহকে। এছাড়া চরমভাবে আকৃষ্ট হয়েছিলেন এখানকার নৈসর্গিক দৃশ্য এবং প্রমত্তা পদ্মা নদী ও পদ্মার বুক থেকে বেরিয়ে আসা গড়াই নদীর প্রতি।

১৮৯১ সালে কবিগুরু জমিদারি পরিচালনার জন্য শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে আসেন। কুঠিবাড়ি থেকে তিনি পতিসর ও শাহজাদপুরের জমিদারিও দেখাশুনা করতেন। এখানকার মনোমুগ্ধকর পরিবেশে কবি অসংখ্য প্রবন্ধ, কবিতা ও গল্প রচনা করে গেছেন। তাঁর এসব লেখনীর মধ্যে সোনার তরী, মানসসুন্দরী, উর্বশী, চিত্রা, ক্ষনিকা, গীতাঞ্জলিসহ অনেক গান ও কবিতা নিভৃত এই পল্লীর পরিবেশেই রচিত হয়েছিল।

৩২ বিঘা জায়গা ঘিরে পৌনে চার বিঘা জমির উপর ঢেউ আকৃতির প্রচারবেষ্টিত শিলাইদহের কুঠিবাড়ি প্রতিষ্ঠিত। তিনতলা এই কুঠিবাড়ির কামরার সংখ্যা ১৮টি। কুঠিবাড়ির পশ্চিম দিকে পুকুর পাড়ের শান বাঁধানো বকুলতলার ঘাট আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখানে ফুলের সুগন্ধ ও পাখির কলরবে কবি গান ও কবিতা লিখতেন। কুঠিবাড়িতে কবির ব্যবহার্য জিনিসপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী সংরক্ষিত রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ৮০টিরও অধিক বিভিন্ন দুর্লভ ছবি ও কবির ব্যবহূত খাট, ইজি চেয়ার, লেখার টেবিল, স্পিড বোট, দুই বেহারার পালকি, ঘাস কাটা মেশিন, গদি চেয়ার, নৌকা উল্লেখযোগ্য। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কুঠিবাড়ি সংরক্ষণ ও দেখাশোনার কাজ করছে।

শিলাইদহ থেকে জমিদারি ছেড়ে যাওয়ার পরও কবি বেশ কয়েকবার শিলাইদহে এসেছেন। তবে অন্তিম শয়নকালে কবির শেষ ইচ্ছানুযায়ী তার স্মৃতিধন্য ভালোবাসার গ্রাম শিলাইদহে আর আসা হয়নি।

প্রতিবছরের মতো এবারো কবির জন্মজয়ন্তী পালন উপলক্ষে ২৫, ২৬ ও ২৭ বৈশাখ তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠান উদযাপনের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া কুঠিবাড়ি চত্বর ঘিরে বসেছে বাংলার চিরায়ত গ্রামীণ মেলা।