হয়তো বাড়ির অবুঝ শিশুটি কোনো এক অজানা কারণে কেঁদে কেটে একেবারে বাড়ি মাথায় তুলেছে। একে একে বাড়ির অনেকেই শান্ত করার চেষ্টা করছে শিশুটিকে। কিন্তু তার কান্না থামার কোনো লক্ষণই নেই। অথচ মা একবার কোলে নেয়ার সাথে সাথে হয়তো নিমেষেই থেমে যায় সে কান্না। অনেকেই হয়তো বলবেন যে মায়ের মতো শিশুর সবচেয়ে কাছের জনের কাছে এসে কান্না যে থামবে এটাই তো স্বাভাবিক। তবে এই স্বাভাবিক বিষয়টির নেপথ্যে আর কী কারণ থাকতে পারে সেই গবেষণাই বেশ অনেকদিন ধরে করে আসছিলেন জাপানের একদল বিজ্ঞানী। আর দীর্ঘ এই গবেষণার ফল হিসেবে সম্প্রতি তারা যে কারণটির কথা বলেছেন সেটি হলো মায়ের কোলে ওঠার পর শিশুর হূত্স্পন্দনের তারতম্য। বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘কারেন্ট বায়োলজি’তে জাপানী বিজ্ঞানীদের এই আলোচনা গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে যে, মায়ের কোলে ওঠার পর শিশুদের হূত্স্পন্দন বেশ খানিকটা কমে যায়। আর হূত্স্পন্দনের এই হাসিই শিশুটিকে শান্ত করে তোলে। তবে মজার বিষয় হলেও সত্য যে, কান্না ছাড়া অন্য কোনো সময় শিশুদের কোলে নিলে তাদের হূত্স্পন্দনে খুব একটা তারতম্য দেখা যায় না। এ প্রসঙ্গে গবেষণা দলের অন্যতম সদস্য এবং জাপানের রিকান ব্রেইন সায়েন্স ইনস্টিটিউটের ডাক্তার কুমি কুরোদা জানান, ‘যখন বাচ্চারা একটানা কাঁদতে থাকে তখন অনেক বাবা-মা ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন এবং কেউ কেউ অবুঝ শিশুকে উচ্চস্বরে ধমক বা মারও দেন। তবে এসব ক্ষেত্রে শিশুটিকে কোলে নিয়ে শান্ত করার চেষ্টা ভালো ফল বয়ে আনতে পারে।’ এদিকে মানব শিশুর মতো সিংহ, কাঠবিড়ালি ও ইঁদুরের বাচ্চার মতো বহু প্রাণীর ক্ষেত্রেও কোলে নেওয়ার এই তত্ত্ব কাজ করে বলে জানিয়েছেন এই বিজ্ঞানীরা।
