গাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও বিস্ফোরক আইনে দায়েরকৃত বেশ কয়েকটি মামলায় জামিন পেয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদসহ তিন সংসদ সদস্য। জামিনপ্রাপ্ত অপর দু’জন হলেন বরকতউল্লাহ বুলু ও শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এমপি।
অন্যদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সাত নেতার জামিন আবেদন নাকচ হয়েছে। অন্য যে ছয়জনের জামিন নাকচ করা হয়েছে তারা হলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, রুহুল কবির রিজভী এবং যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।
মওদুদ আহমদ ছয়টি এবং বুলু ও এ্যানি পাঁচটি করে মামলায় জামিন পেয়েছেন। গতকাল রবিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. জহুরুল হক এ আদেশ দেন।
বিএনপি নেতাদের আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া আদেশের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, মির্জা ফখরুলসহ সাত নেতাকে জামিন না দিয়ে বিচারক ন্যায় বিচারের লংঘন করেছেন। এসব রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা। এ ধরনের মামলায় অতীতে সব সময়েই রাজনীতিবিদরা জামিন পেতেন। কিন্তু এখন তুচ্ছ মামলায়ও বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা জামিন পাচ্ছেন না। এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে জামিনের প্রার্থনা জানানো হবে বলে তিনি জানান।
প্রসঙ্গত, গত ২ ও ৬ মার্চ পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা, হাতবোমা বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাংচুরের অভিযোগে পল্টন থানায় চারটি, রমনায় দুটি ও শাহজাহানপুর থানায় একটি মামলা করে পুলিশ। বিএনপির শীর্ষ নেতারা এসব মামলায় গত ৭ এপ্রিল হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত তাদের আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠান। এরপর গত ৯ এপ্রিল তারা ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে এই জামিনের আবেদন করেন। আসামিদের জামিন চেয়ে আবেদনে শুনানি করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন এমপি ও সানাউল্লাহ মিয়া। এ সময় শতাধিক আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন মহানগর পিপি আবদুল্লাহ আবু ও অতিরিক্ত পিপি শাহআলম তালুকদার।
শুনানিতে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, বিরোধী দলকে দমন এবং ধ্বংস করার জন্য গাড়ি ভাংচুর, বোমা হামলার অভিযোগ শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে। পুলিশকে দিয়ে সরকার এ মিথ্যা মামলা করিয়েছে। দেশের কোন মানুষ বিশ্বাস করবে না মওদুদ আহমদের মত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব গাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, বোমা হামলার মত ঘটনায় যুক্ত থাকবেন। তিনি বলেন, এসব মামলার ঘটনা মিথ্যা এবং সাক্ষী সাজানো।
পিপি আব্দুল্লাহ আবু বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার সাক্ষ্য-প্রমাণ রয়েছে। তাদের নির্দেশে ও কর্তৃত্বে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ চালানো হয়েছে।
