রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সহিংস ঘটনার পর গতকাল রবিবার ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ও পাঁচ সহকারী প্রক্টর পদত্যাগ করেছেন। তারা হলেন ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. কমলেশ চন্দ্র, সহকারী প্রক্টর আব্দুল আজিজ, শফিক আশরাফ, আজিজুর রহমান, এইচএম তারিকুল ইসলাম ও আসিফ আল মতিন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার শাহজাহান আলী মন্ডল জানান, তিনি কোন পদত্যাগপত্র পাননি এবং বিষয়টি তার জানা নেই। এ ব্যাপারে পদত্যাগকারী শিক্ষকরা জানান, রাতে রেজিস্ট্রারকে না পেয়ে পদত্যাগপত্র তার পিয়নের হাতে দেয়া হয়েছে।
এদিকে, শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-ছাত্র-পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষ চলাকালে ককটেলসহ গ্রেফতার ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী রাজীব হোসেনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল কোতয়ালী থানার এসআই মেকবুল মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। রাজীবকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যানারে ভিসির পদত্যাগ দাবি ও শিক্ষকদের ওপর পুলিশী নির্যাতনের প্রতিবাদে গতকাল বিকালে রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে বিভিন্ন সংগঠনের নেতা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত রাঙ্গা, ওয়ার্কার্স পাটির নেতা কাজী মজিরুল ইসলাম লিটন, গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আর এম হাফিজার রহমান, আবু সাঈদ মো. ওয়াদুদুর রহমান, একাউন্টিং এ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. আপেল মাহমুদ, বাংলা বিভাগের প্রভাষক ওমর ফারুক প্রমুখ। এ সময় বক্তারা শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পুলিশের লাঠিপেটার প্রতিবাদে আগামী ৭ মে পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ধর্মঘট আহবান করে ভিসির পদত্যাগ ও শিক্ষকের ওপর নির্যাতনকারী পুলিশদের শাস্তি দাবি করেন।
