ডায়েট

ফ্যাট খাবেন?

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৩, ২০:১৫
হূদযন্ত্রের যত্ন নিতে গিয়ে ফ্যাট-যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলার প্রবণতা বেড়েছে। কিন্তু নির্বিচারে ফ্যাট-বর্জনের প্রবণতাকে বিপজ্জনক বলেই মনে করছেন চিকিত্সকরা। কারণ এমন অনেক ‘ভালো ফ্যাট’ রয়েছে, যাদের অভাবে রীতিমতো অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ফ্যাট-যুক্ত কোনো খাবার বাতিলের তালিকায় ফেলার আগে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শই দিয়েছেন তারা। স্যাচ্যুরেটেড ফ্যাট বা ‘খারাপ ফ্যাট’ থাকে ঘি, পাম তেল, নারিকেল তেলের মতো জিনিসে। বারবার একই তেলে ভাজা খাবারেও জমা হয় এই ধরনের ফ্যাট। এসব খাবার থেকে হার্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিন্তু তা এড়িয়ে চলতে গিয়ে অনেকেই ভালো ফ্যাট খাওয়াও বন্ধ করে দিচ্ছেন। ‘ভালো ফ্যাট’ শরীরে না থাকলে চর্মরোগ, অপুষ্টির সম্ভাবনা বাড়ে। শরীরে কিছু কিছু হরমোন তৈরি না হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফ্যাট-ফ্রি কথাটা ঠিক অর্থে ব্যবহার করা হয় না বলেই এত সমস্যা। শরীর সুস্থ রাখতে পরিমিত আহার সব সময়েই প্রয়োজন। তবে অনেকেই অতিরিক্ত সচেতন হতে গিয়ে সব ধরনের ফ্যাট এড়িয়ে চলার ভুল করে থাকেন। বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছের তেল খেতে বলা হয় রোগীদের। অনেকেই এসব এড়িয়ে চলতে চান। কিন্তু মাছের তেল শরীরের জন্য ভালোই। সয়াবিন তেল, বাদাম তেল, সর্ষের তেল খাওয়াও বেশ উপকারী। চিকিত্সকেরা জানান, কোলেস্টেরল মাত্রেও ক্ষতিকারক নয়। কিছু ধরনের কোলেস্টেরল বরং মানুষের শরীরে থাকা খুবই জরুরি। ফ্যাট এবং কোলেস্টেরল থেকে হূদযন্ত্রের যে ক্ষতি হতে পারে, সে তথ্য এখন অধিকাংশেরই জানা। এর থেকে স্ট্রোক, কিডনির সমস্যার পাশাপাশি আরও নানা ধরনের রোগ হতে পারে। চর্বি মানুষের শরীরের এমন একটি উপাদান যা শরীরকে দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শক্তি যোগায়, স্নায়ুগুলোকে আবৃত করে রেখে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে, বিভিন্ন ধরনের হরমোনের মধ্যে সমতা বজায় রাখে, আমিষ ও শর্করা জাতীয় খাদ্য বিপাকে সহায়তা করে এবং ত্বকের শিরাকে নমনীয় রাখতে এবং গিঁটগুলোতে তৈলাক্ততা সরবরাহের মাধ্যমে সচল রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণ চর্বির উপস্থিতি শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। চর্বির মধ্যস্থ ফ্যাটি অ্যাসিডের ধরনের ওপরই নির্ভর করে শরীরের জন্য এর প্রয়োজনীয় পরিমাণ, ক্ষতিকর প্রভাব বা উপকারিতা। চর্বি প্রধানত দু ধরনের হয়ে থাকে। সম্পৃক্ত এবং অসম্পৃক্ত চর্বি। সম্পৃক্ত চর্বি :প্রয়োজনের অতিরিক্ত এ ধরনের চর্বি খাদ্য তালিকায় থাকলে তা রক্তে বেশি পরিমাণে কোলেস্টেরল তৈরি করে এবং ধমনীর গায়ে জমে ধমনীকে সরু করে তোলে। ফলে রক্ত প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়ে হূদরোগের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। মাংস, মাখন, দুগ্ধ জাতীয় খাদ্যে এর পরিমাণ বেশি থাকে। তাই এ জাতীয় চর্বির পরিমাণ কম রেখে খাদ্য তালিকায় ভালো জাতীয় চর্বির পরিমাণ বেশি রাখতে সচেতন হতে হবে। অসম্পৃক্ত চর্বি :অসম্পৃক্ত চর্বি দু ধরনের, মনো এবং পলি। শরীর অসম্পৃক্ত চর্বি উত্পাদন করতে পারে না তবে পলি ধরনের অসম্পৃক্ত চর্বিকে মনো ধরনের চর্বিতে রূপান্তরিত করে নিতে পারে। অসম্পৃক্ত চর্বির মধ্যে ট্রান্স-ফ্যাট প্রয়োজনীয় তো নয়ই, বরং এগুলো শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। অপর দিকে যেসব অসম্পৃক্ত চর্বির মধ্যে ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড বিদ্যমান সেগুলো স্বাস্থ্যবান্ধব হিসেবে কাজ করে। উন্নত দেশে বিভিন্ন মাছে বিদ্যমান ওমেগা ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ বিশ্লেষণ করে এর প্রয়োজনীয় মাত্রা নির্ণয় করা হয়েছে।