স্বাস্থ্য

হাসুন সুস্থ থাকুন

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৩, ২০:১৬
হাসির চেয়ে সহজ, স্বাভাবিক আর কী হতে পারে। ডাক্তার,ওষুধ—কোনো কিছুরই দরকার নেই। মন-প্রাণ খুলে হাসুন। ভালো থাকুন। প্রতিদিনকার জীবনের গুরুত্ব, গতি, চাপ, চিন্তা, কাজ—এ সবকিছুর সাথে পাল্লা দিয়ে চলতে চলতে আমরা হাঁপিয়ে ওঠি। মনে পড়ে না, শেষ কবে শুধুমাত্র আড্ডা মারার জন্য বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে বেড়াতে বেরিয়েছি। অথবা কবে আশপাশের কথা চিন্তা না করে মন খুলে হেসেছিলাম। ভালো থাকা আর ভালো রাখার প্রথম এবং প্রধান ওষুধ হচ্ছে মন-প্রাণ খুলে হাসা। মন খুলে যে হাসতে পারবে তার অর্ধেক অসুখ সেরে যাবে। এখন তো ডিপ্রেশন, হার্টের অসুখের চিকিত্সাতেও ডাক্তাররা লাফটার থেরাপি সাজেস্ট করছেন। শহরের বিভিন্ন জায়গায় বেশকিছু লাফিং ক্লাবও তৈরি হয়েছে। ভোরবেলা পার্কে অথবা লেকের পাড়ে গেলে দেখা যায়, বেশকিছু মানুষ একসঙ্গে নানা রকমভাবে হাসছেন। আসলে বিভিন্ন লাফিং ক্লাবের সদস্যরা এমনভাবেই হাসির অনুশীলন করেন এবং আস্তে আস্তে এই অনুশীলনই ফিরিয়ে আনে জীবনের হারিয়ে ফেলা ছন্দ। হাসির এই জাদুর কাঠির ছোঁয়ায় মুহূর্তের মধ্যে পাল্টে যায় সব বিপরীত পরিস্থিতি। সবাই জানেন, হাসলে মন প্রফুল্ল থাকে। আর প্রফুল্ল মন শরীরের জন্য দারুণ উপকারী। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, মনের চাপ দূর করার জন্য হাসি সবচেয়ে উপকারী দাওয়াই। দেশের বাইরে হাসি নিয়ে অনেক গবেষণা হয়। বিভিন্ন দেশে ‘লাফটার ক্লাব’ রয়েছে। তারা হাসি নিয়ে গবেষণা করেন এবং প্রাণ খুলে হাসেন। স্মিত বা অট্টহাসি—এই দু ধরনের হাসিতেই মনের ও শরীরের রসায়ন পরিবর্তন হয়ে যায়। তবে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, হাসতে হবে প্রাণ খুলে। কারণ প্রাণখোলা হাসি শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সচল রাখে। রক্ত চলাচল থেকে শুরু করে বড় ধরনের অসুখের সুস্থতা অনেকাংশে হাসির ওপর নির্ভরশীল। ছোট্ট একটা উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে, চিকিত্সকেরা যদি রোগীদের সঙ্গে হাসি হাসি মুখে কথা বলেন তাহলে রোগের অর্ধেকই উপশম হয়ে যায়; এটাও কিন্তু গবেষণায় প্রমাণিত। তাই সব সময় হাসুন, সুস্থ থাকুন।