ফুডজোন

আমেরিকান স্বাদ

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৩, ২০:১৮
জিগাতলা মোড় ও রাইফেলস স্কয়ারের মাঝামাঝি একটি দো-তলায় সাজানো হয়েছে আমেরিকান খাবারের এই পসরা—এ অ্যান্ড ডাব্লিউ। অ্যালেন আর রাইট, এই দুইজনের নামের আদ্যাক্ষর দিয়ে এ অ্যান্ড ডাব্লিউ। প্রায় এক শ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে খোলা হাওয়ায় খাবারের পসরা বসাতেন তারা দুজন। খ্যাতির সাথে সাথে চাহিদাও বাড়ে তাদের। একসময় তাদের খাবারের সুনাম পৌঁছে যেতে থাকে আশপাশের রাজ্যেও। এভাবেই শুরু, যা আজ পরিণত হয়েছে মহীরুহে। শত শত মাইল দূরে বসে, বাংলাদেশেও আমরা স্বাদ নিচ্ছি মোহনীয় সেই সব খাবারের। গ্লোবাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর শাহরিয়ার আলী এবং সিইও ইরফাত আলী প্রথম আমাদের দেশে এই খাবারের বাণিজ্যিক বিপণন শুরু করেন। ধানমন্ডি আউটলেট প্রথমে ঢুকলেই চোখে পড়বে নান্দনিক এক ইন্টেরিয়র। আলাদা আলাদা বসার জায়গা রয়েছে। চাইলে ছোট ছোট পার্টি করার মতো জোন নিজেরাই তৈরি করে নেওয়া যাবে। বাচ্চাদের জন্য সুখবর হলো, ছোট্ট হলেও একটা গেম-জোন রয়েছে এখানে। এবার আসি খাবারের কথায়। শুরুর পর থেকেই তাদের রুট বিয়ার ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। বিয়ার শুনে ভ্রু কুঁচকানোর কোনো উপায় নেই। এটা সম্পূর্ণরূপেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন, শতভাগ অ্যালকোহোলমুক্ত। চাইলে বড় একটা মগে স্বাদ নিতে পারেন মোহনীয় এই পানীয়ের। রেগুলার ৯০ আর একটু বেশি হলে ১১০ টাকা, এই তো। যদি তার উপর একটা আইসক্রিমের স্কুপ ভাসিয়ে দিতে চান, গুনতে হবে আরও ৫০ টাকা। তবে সেটা যে বৃথা যাবে না, স্বাদেই টের পাবেন। ফ্রেঞ্চ ফ্রাই তো খেয়েই থাকেন, এদেরটা কিন্তু একটু অন্য রকম। আর চিলি চিজ ফ্রাইও খেতে পারেন চাইলে। এর দামও ২০০ টাকার ভেতরেই। কয়েক রকমের হটডগ পাবেন ২৬০ টাকার মধ্যে। দামটা একটু বেশি মনে হলেও বুঝতে হবে এটা সরাসরি আমেরিকার খাবার। তবে শুধুই দামের খাতিরে নয়, মানের জন্য দামটাকে ছাড় দেওয়া যেতেই পারে। চিকেন ফ্রাই তিন পিস পাবেন ৩৪০ টাকায়, বড় পরিসরে ১২ পিস ১৩৩০ টাকায়। আর এখানের মোজা বার্গার না খেলেই নয়। ৩৫০ টাকার এই বার্গারের স্বাদ আপনার মুখে লেগে থাকবে অনেকটা সময়। আরও কয়েক রকম বার্গার রয়েছে। সর্বোচ্চ ৪৩০ টাকার বার্গারও পাবেন এখানে। এই তো গেল সব খাবারের হিসাব-নিকাশ, এইবার একদিন ঘুরে আসুন এই ক্যাফে থেকে। খাবারের সাথে কিন্তু শতভাগ হালাল এই বিয়ারের স্বাদটা নিতে ভুলবেন না। ছুটির দিনসহ প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত রেস্টুরেন্টটি খোলা থাকবে। এক নজরে কোথায় :সম্প্রতি ধানমন্ডিস্থ সাত মসজিদ রোডে গ্রিন অক্ষয় প্লাজায় উদ্যোগ নিয়েছিলেন :শাহরিয়ার আলী ও ইরফাত আলী যাত্রা শুরু :ধানমন্ডি শাখা মাসখানেক হবে, আর গুলশানে ২০০৪ সাল থেকে। ব্যবস্থাপকের ভাষ্য :ধানমন্ডি এ অ্যান্ড ডাব্লিউ-এর শিফট ম্যানেজার তানভীর আহসান বলেন, ‘আমাদের ফুড কোয়ালিটির ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হয় না। তা ছাড়া সার্ভিসেও ক্রেতাকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা থাকে সব সময়।’