রমজান মাস এলেই মহাব্যস্ত হয়ে ওঠেন নগর সংলগ্ন নলছিটি উপজেলার তিমিরকাঠী ও বাকেরগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম চরামি গ্রামের মানুষ। এ দুই গ্রামের দুই শতাধিক পরিবার মুড়ি ভাজা ও তা বিক্রির সঙ্গে যুক্ত। যুগ যুগ ধরে বংশ পরম্পরায় তারা ধরে রেখেছেন এ পেশা। সারা বছর এ কাজের আয়েই তাদের সংসার চলে। রমজান মাস এলে কাজের চাপ বেড়ে যায় কয়েকগুণ। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত সকলেই মুড়ি ভাজার কাজে সহায়তা করেন। রমজানের আগেভাগেই মুড়ি ভেজে মজুদ ও পাইকারের কাছে বিক্রি করেন তারা। তবে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে এবার রমজানের পূর্বে তাদের চারদিন কাজ করা সম্ভব হয়নি। তাই রবিবার থেকে বাড়তি কাজ করে তা পুষিয়ে নিচ্ছেন।
নগর সংলগ্ন আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতু পার হলেই দপদপিয়া ইউনিয়নের তিমিরকাঠী গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে সকলেই মুড়ি ভাজা ও তা বস্তাভর্তি করতে ব্যস্ত। হাজারো মানুষের কর্মযজ্ঞের মধ্য দিয়ে হাতে ভাজা এ মুড়ি শুধু দক্ষিণাঞ্চল নয়, সারাদেশের রোজাদারদের কাছে ইফতারির প্রধান রসদ। তিমিরকাঠী গ্রামের দেড়শ পরিবারের অধিক মুড়ি ভাজা পেশার সঙ্গে জড়িত বলে গ্রামবাসী জানায়। একেকটি পরিবার প্রতিদিন কমপক্ষে ১ মণ চালের মুড়ি ভাজতে পারে। তিমিরকাঠী থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরবর্তী বাকেরগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম চরাদি গ্রামে গিয়েও দেখা যায় একই চিত্র। সেখানকার কলবাড়ি ও হাজি বাড়ির প্রায় অর্ধশত পরিবার মুড়ি ভাজায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ দুই গ্রামের অধিবাসী জানান, ইউরিয়া সারের ব্যবহার বিহীন, হাতে ভাজা এ মুড়ি স্বাদে অতুলনীয়। তাই দিনে দিনে মানুষের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছে এ মুড়ি। বাজারে অনেক সাদা ও আকর্ষণীয় কলে ভাজা মুড়ি থাকলেও তার চেয়ে কদর বেশি তিমিরকাঠীর হাতে ভাজা মুড়ির। পাইকাররা জানান, দেখতে ধবধবে সাদা যেসব মুড়ি বাজারে পাওয়া যায় তা মেশিনে রাসায়নিক কেমিক্যাল ব্যবহার ও ইউরিয়া সার যুক্ত করে তৈরি করা হয়। এসব মুড়ি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় সচেতন মানুষ তিমিরকাঠীর মুড়ির প্রতি দুর্বল বেশি।
তিমিরকাঠীর প্রবীণ বাছেদ হাওলাদার জানান, এক সময় দেশের অন্য দশটা গ্রামের মতোই এ গ্রামের গৃহস্থরা নিজেদের পরিবারের প্রয়োজনীয় মুড়ি ভাজতেন। ১৯৪৮ সালে পার্শ্ববর্তী গ্রাম ঝুরকাঠির বাসিন্দা আমজেদ মুড়ি ভেজে তা বাজারে বিক্রি করতে শুরু করেন। তার দেখাদেখি তিমিরকাঠীর আরো কয়েকটি পরিবার তাদের সংসারের আয় বাড়াতে মুড়ি ভেজে বিক্রি শুরু করে। গ্রামের বেশকিছু মানুষ মুড়ি ভেজেই তাদের সংসার চালাতে শুরু করে। বিগত শতাব্দীর আশির দশকে আব্দুল হক নামের এক বিএসসি শিক্ষক বিভিন্ন স্থানের পাইকারদের মুড়ি ক্রয়ের জন্য উদ্বুদ্ধ করে এ গ্রামে নিয়ে আসেন। এরপরই কদর বাড়তে থাকে তিমিরকাঠী গ্রামের মুড়ির।
