মন নিয়ন্ত্রিত ট্যাবলেট পিসি তৈরি করছে স্যামসাং

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০১৩, ২০:৪৫
স্যামসাংএবারে ঘোষণা দিয়েছে এমন এক ট্যাবলেট পিসি তৈরির, যেটি কি না মন দিয়েই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। অর্থাত্ এই ট্যাবলেট পিসি ব্যবহার করার জন্য হাতের স্পর্শের কোনো প্রয়োজন হবে না। মনের ভাবনা দিয়েই চালানো যাবে এটি। ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন বিজ্ঞানীর সাথে স্যামসাং তাদের এই ধারণাটি প্রদর্শন করেছে। ইইজি মনিটরিং ইলেকট্রোড বসানো একটি বিশেষ ক্যাপ পড়ে ট্যাবলেট পিসির দিকে তাকিয়ে নির্দিষ্ট অ্যাপ্লিকেশন চালু করা বা বন্ধ করা এবং এই ধরনের আরও কিছু কাজ সম্পন্ন করার বিষয়গুলো দেখান তারা। কম্পিউটিং ডিভাইসকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নানা ধরনের প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হলেও গত কয়েকবছরে বিজ্ঞানীরা সবচেয়ে বেশি কাজ করে যাচ্ছেন চিন্তা-নিয়ন্ত্রিত কম্পিউটিং নিয়ে। আর এরই বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে এবারে কাজ করছে স্যামসাং। এই ধরনের ডিভাইস সঠিকভাবে তৈরি করতে পারলে তা কম্পিউটিংয়ে নতুন এক যুগের সূচনা করবে বলেই জানিয়ে আসছেন বিজ্ঞানীরা। কেননা যারা শারীরিকভাবে অসমর্থ, তারাও এই প্রযুক্তির মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গরূপে কম্পিউটিংয়ের কাজ করে যেতে পারবেন। এমআইটি টেকনোলজি রিভিউকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে স্যামসাংয়ের প্রধান গবেষক ইনসু কিম এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘কয়েক বছর আগেও একটি ফোনে ইনপুট মাধ্যম হিসেবে একমাত্র সহায় ছিল কিপ্যাড। তবে সময়ের সাথে সাথে স্পর্শ, কণ্ঠস্বর এবং ইশারার মাধ্যমেও ফোনে তথ্য ইনপুট করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আরও বিভিন্ন উপায়ে ফোন বা এই ধরনের ডিভাইসে তথ্য ইনপুট করতে পারলে কম্পিউটিংয়ের ধরনটাই পাল্টে যাবে, ডিভাইসের সাথে মানুষের যোগাযোগের পদ্ধতিতে আসবে যুগান্তকারী পরিবর্তন।’ ইতোমধ্যেই অবশ্য স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি এস৪-এ যুক্ত করা হয়েছে চোখের ইশারায় ভিডিও বা গান বন্ধ করা বা চালু করার সুযোগ। তবে ইইজি হেডসেটের মাধ্যমে পুরো ট্যাবলেট নিয়ন্ত্রণের আশা করছেন স্যামসাংয়ের গবেষকরা। এই প্রকল্পে স্যামসাংয়ের ইমার্জিং টেকনোলজি ল্যাবের গবেষকদের সাথে কাজ করছেন টেক্সাস ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক রুজবেহ জাফারি। বর্তমানের ইইজি হেডসেটে তরলের ব্যবহার থাকায় তিনি বিশেষ করে কাজ করছেন শুষ্ক ইইজি হেডসেট তৈরি করতে। খুব শীঘ্রই এতে সফল হবেন বলেও আশা করছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা। ইইজি হেডসেটের মাধ্যমে অবশ্য কিছু গেম খেলার সুযোগ করে দিতে বাজারে রয়েছে নিউরোস্কাই, ইমোটিভের মতো প্রতিষ্ঠানের ডিভাইস। তবে স্যামসাং সফল হলে বোধহয় তারাই প্রথম বাণিজ্যিক মোবাইল ডিভাইস বাজারে আনতে পারবে।