পীরগঞ্জ ওয়াজেদ মিয়া সেতুর ভবিষ্যত্ আবারও অনিশ্চিত!

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০১৩, ২১:১৬
রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় করতোয়া নদীর ওপর কাঁচদহ ঘাটে নির্মিতব্য ওয়াজেদ মিয়া সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন নিয়ে আবারও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সেতুর পশ্চিম পাড়ে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ অংশে সংযোগ সড়ক নির্মাণে জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় নতুন করে ওই অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। ফলে ৩১মে সেতুটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা নিয়ে সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। এর আগেও বরাদ্দকৃত অর্থ ছাড় না করায় সেতুটির কাজ থমকে গিয়েছিলো। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হলে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল গত ২১ ফেব্রুয়ারি সেতু এলাকা পরিদর্শনে আসেন। পরিদর্শনকালে প্রতিনিধিদল এলাকাবাসীর সাথে জমি অধিগ্রহণের জন্য মতবিনিময় করেন এবং বরাদ্দকৃত অর্থ ছাড় করাসহ জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু সে প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন না হওয়ায় সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে নতুন কর্মপরিকল্পনার আলোকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক সেতুটি উদ্বোধন করা নিয়ে সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, সেতুটি নির্মাণে প্রাক্বলিত বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১৮ কোটি ৩৫ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। সেতুটির দৈর্ঘ্য ২৭৮দশমিক ৮৮৫মিটার (সংশোধিত প্রস্তাবিত ৩০৩ দশমিক ২৭মিটার), প্রস্থ ১০দশমিক ২৫০মিটার, স্প্যান সংখ্যা-৭টি, পিলার সংখ্যা-৬টি, এ্যাবার্টমেন্ট-২টি,ওয়েলের গভীরতা ২৫মিটার। দু’ পার্শ্বে সংযোগ সড়কের মধ্যে পীরগঞ্জ অংশের ৫শ’ মিটার এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ অংশে ৬৫০ মিটার। ইতিমধ্যে পীরগঞ্জ অংশের সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হলেও অধিগ্রহণকৃত জমির মালিকরা অর্থ না পাওয়ায় মালিকানা ছাড়ছে না। ফলে নবাবগঞ্জ অংশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ ব্যাহত হচ্ছে। সেতুর পশ্চিম প্রান্তে নবাবগঞ্জ এলাকায় সংযোগ সড়ক নির্মাণে জমি অধিগ্রহণের জন্য ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাবনা দিয়েছে। এদিকে, সংযোগ সড়ক নির্মাণে যাদের বসতবাড়ি ও জমি-জমা অধিগ্রহণের আওতায় পড়েছে তাদের- সেতুটি হোক আমরা চাই । আমাদের বাড়ি-ঘর সরাতে হবে। ছাড়তে হবে আবাদী জমি। এতে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু জমি অধিগ্রহণের টাকা সময়মত না দিয়ে বানের সময় দিলে বাড়ি নির্মাণ করব কেমন করে? উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের ১৩মে তত্কালীন যোগাযোগমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। সে সময় ৩ বছরে সেতুটি নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ ১১ বছরে শুধুমাত্র ৫টি ওয়েলের আংশিক কাজ করার পর সেতুটির নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে নতুন করে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে সেতু নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু করে। সেতুটি নির্মিত হলে উত্তর জনপদের গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর জেলার সাথে সড়কপথে প্রায় ৮০ কি.মি. দূরত্ব কমে আসবে। যোগাযোগে ক্ষেত্রে সুচিত হবে নতুন দিগন্তের।