কারাগারে অগ্নিদগ্ধ এক আইনজীবীর মৃত্যুতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে রিট দায়েরের ক্ষেত্রে রিটকারীর আইনগত বৈধতা আছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ওই রিটের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোখলেসুর রহমান এ প্রশ্ন উত্থাপন করে বলেন, রিটকারী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একজন প্রসিকিউটর। তিনি এই আবেদনে যাদের বিবাদী করেছেন তারা সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তা। ফলে সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে তার মামলা করার যৌক্তিকতা আছে কি না খতিয়ে দেখা দরকার। দুদক কৌঁসুলি সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, আমি দুদকের আইনজীবী। কিন্তু আমার নিয়োগপত্রে মামলা করার বিষয়ে বিধিনিষেধের কথা উল্লেখ রয়েছে। রিটকারী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন বলেন, আমি ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর। কিন্তু ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে বা কোনো যুদ্ধাপরাধীর পক্ষে আমি মামলা লড়ছি না। ফলে রিট করতে আইনগত বাধা নেই। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, আপনাকে প্রসিকিউটর হিসেবে যে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে সেখানে এ ধরনের মামলা করার ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধের কথা উল্লেখ রয়েছে কি না? রিটকারী বলেন, কোনো বিধিনিষেধ নেই। এরপরই আদালত প্রসিকিউটরের নিয়োগ সংক্রান্ত চিঠি আদালতে দাখিল করতে বলেন। পাশাপাশি আইনজীবীর মৃত্যুর ঘটনায় কোনো ইউ.ডি (অপমৃত্যু) মামলা হয়েছে কি না তা জানাতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে নির্দেশ দেওয়া হয়। বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল এ আদেশ দেন। আজ বুধবার এ মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে নানা অনিয়ম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার জন্য রিটকারী সুমনের প্রশংসা করেন আদালত। হাইকোর্ট বলেন, আপনার ফেসবুকে দেওয়া সকল পোস্ট দেখি। সবগুলোতে জনগণের স্বার্থের বিষয়টি জড়িত। এজন্য কিছু লোক আপনার বিরুদ্ধে লেগেছে। এজন্য আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে।
মানহানির একটি মামলায় গত ২৬ মার্চ কারাগারে পাঠানো হয় আইনজীবী পলাশকে। এক মাস পর ২৬ এপ্রিল কারা হাসপাতালের বাথরুমে অগ্নিদগ্ধ হন ওই আইনজীবী। পরে তাকে উন্নত চিকিত্সার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ৩০ এপ্রিল দুপুরে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
