মিউনিখে বিধ্বস্ত বার্সা

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০১৩, ২১:২৬
খেলোয়াড়রা মুখে স্বীকার করতে চান না যে খেলায় ‘প্রতিশোধ’ ব্যাপারটার কোনো উপস্থিতি থাকে। তা স্বীকার করুন আর নাই করুন; ফুটবলীয় প্রতিশোধ কাকে বলে, তা বার্সেলোনাকে কড়ায়-গণ্ডায় বুঝিয়ে দিল বায়ার্ন মিউনিক। চার বছর আগে বার্সেলোনা যেমন ৪-০ গোলে হারিয়েছিল বায়ার্নকে; মঙ্গলবার ঠিক একই ব্যবধানে বার্সেলোনাকে গুঁড়িয়ে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে একরকম ছিটকেই দিল জার্মান ‘পাওয়ার হাউজ’ বায়ার্ন মিউনিক। জোড়া গোল করে এবং একটি গোল করিয়ে ম্যাচ দখলে নিয়ে নিলেন সেই মুলার এবং একটি করে গোল করে আরো পেরেক ঠুকলেন গোমেজ ও রোবেন। এ ম্যাচ নিয়ে অনেক জল্পনা-কল্পনা ছিল। বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর ও ফর্মে থাকা দুই ঝাক খেলোয়াড় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগে আলিয়াঞ্জ আরেনায় মুখোমুখি হয়েছিল। সবাই অনুমান করেছিলেন, খুব হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। সব অনুমান ভ্রান্ত করে ম্যাচটাকে একেবারে একতরফা এক লড়াইয়ে পরিণত করে ফেললেন টমাস মুলার, মারিও গোমেজ, আরিয়েন রোবেনরা। বায়ার্নের প্রবল দাপটে একেবারেই অচেনা চেহারায় নিষ্প্রভ হয়ে মাঠে ঘোরাঘুরি করতে থাকা বার্সেলোনা অনুযোগ করার মতোও একটা সুযোগ পেল না। ম্যাচে বার্সেলোনা ৪-০ গোলে হেরেছে—এই একটা তথ্য আসলে বোঝাতে পারে না, কতোটা অসহায় হয়ে আত্মসমর্পণ করেছে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা দল এবং ফুটবল ইতিহাসের সেরা দলগুলোর একটা বার্সেলোনা। নিশ্চিত করেই বলা যায়, ফ্রাঙ্ক রাইকার্ড যুগের পর এমনভাবে কখনোই প্রতিপক্ষের কাছে গুঁড়িয়ে যায়নি বার্সেলোনা। পরিসংখ্যানও তাই বলছে। ১৯৯৭ সালের পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আর এতো বড় ব্যবধানে হারেনি বার্সা। আর ২০০৭ সালের পর কোনো ধরনের খেলাতেই আর এতো বড় পরাজয় দেখতে হয়নি তাদের। ম্যাচের একেবারে শুরু থেকেই প্রবল গতি, নিখুঁত পাস এবং অসামান্য বোঝাপড়া দিয়ে বার্সেলোনার রক্ষণভাগকে এলোমেলো করে দিল বায়ার্ন। শুরুতে বার্সেলোনা মাঝ মাঠে বলই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছিল না। পাল্টা বায়ার্ন আক্রমণের পর আক্রমণ চালাতে শুরু করল। ১৬ মিনিটের মধ্যে দুই গোল পেয়ে যেতে পারতো জার্মান দলটি। খেলার পঞ্চম মিনিটে বক্সের মধ্যে বল পেয়ে ব্যাক হিল করে দারুণ জায়গায় থাকা রোবেনকে এগিয়ে দেন। কিন্তু রোবেন সরাসরি বার্সেলোনার গোলরক্ষক ভালদেজের শরীরে বল মেরে দেন। ১৬ মিনিটে পেনাল্টির খুবই যৌক্তিক আবেদন করেও রেফারির কাছ থেকে সাড়া পায়নি বায়ার্ন। ওভাল ল্যাপ করে আসা অধিনায়ক ফিলিপ লামের জোরালো শট জেরার্ড পিকের হাতে লেগেছিল। তবে ৯ মিনিট পর আর বায়ার্নকে বঞ্চিত করতে পারেননি ভাগ্যও। মুলারের কাছ থেকে প্রথম গোল পায় জার্মানরা; তবে গোলটার জন্য ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার দান্তেকেই বেশি কৃতিত্ব দিতে হবে। ডান উইং থেকে রোবেনের উঁচু হয়ে আসা ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে অসামান্য প্লেসিং করে দিলেন দান্তে। ফলে মুলারকে বল জালে জড়াতে বেগ পেতে হয়নি। পরের গোলটিরও ভঙ্গি প্রায় একই; এবার দান্তের ভূমিকায় মুলার। রোবেনের কর্নার থেকে মুলার বল নামিয়ে দিলেন গোমেজকে। তবে এ ক্ষেত্রে বায়ার্ন দারুণ ভাগ্যবান; পরিষ্কার অফসাইডে ছিলেন গোমেজ। এ তথ্য অবশ্য বায়ার্নের কৃতিত্বকে মোটেও খাটো করে না। এরপর ব্যবধান অনেক বাড়িয়ে নেয়ার সুযোগ পেয়েছিল বায়ার্ন। দীর্ঘক্ষণ কোনো সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলেও ৭৯ মিনিটে আরিয়েন রোবেন প্রায় একক প্রচেষ্টায় বার্সেলোনাকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন দলের তৃতীয় গোলটা করে। আর বার্সেলোনার ঢুকতে থাকা ডিফেন্সের করুণতর চেহারা বের করে এনে মুলার নিজের দ্বিতীয় গোল করলেন এবং বার্সেলোনাকে ফিরিয়ে দিলেন এক ভুলে যাওয়া ইতিহাসের যুগে!