জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে জেলার গাংনী উপজেলার শিমুলতলা গ্রামে গতকাল বুধবার বিএনপির এক কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এসময় বিএনপি সমর্থকদের ১৫টি বাড়িঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা। নিহত ব্যক্তির নাম রুস্তম আলী।
নিহতের ছেলে আনোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রী রেহেনা খাতুন জানান, উপজেলার ষোলটাকা ইউনিয়নের শিমুলতলা গ্রামে গতকাল আওয়ামী লীগ কর্মী শামছুল ইসলাম মিস্ত্রির প্রায় দেড় শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিএনপি সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এ সময় তারা রুস্তম আলীকে পিটিয়ে হত্যা করে। হামলাকারীরা প্রায় ২৩ টি গরু-ছাগল লুট করেছে। অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে ১৫টি বাড়িতে। শামছুল ইসলাম মিস্ত্রির লোকজন চলে যাওয়ার সময় ৫টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতংক সৃষ্টি করে।
পুলিশের এএসপি আব্দুল মতিন জানান, ঘটনার পর পরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বর্তমানে এলাকা শান্ত রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।
গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আমজাদ হোসেন জানান, আওয়ামী লীগের শতাধিক ক্যাডার বিএনপি সমর্থক নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি মধ্যযুগীয় কায়দায় হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে। এদিকে নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছে মেহেরপুরের সিভিল সার্জনকে প্রভাবিত করে ময়না তদন্তের ফল প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের পক্ষে নেয়ার চেষ্টা করছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার সকালে শিমুলতলা গ্রামে খাইবার আলী মাস্টারের সাথে মিনাপাড়া গ্রামের শামছুল হকের জমিজমা বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে আহত আওয়ামী লীগ কর্মী মামুন (২৫) ঢাকার সালাউদ্দীন মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় গত মঙ্গলবার রাতে মারা যায়। এ মৃত্যুর খবর গ্রামের বাড়ি পৌঁছলে শামছুল হকের লোকজন হত্যা ,ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়।
