জিকির সম্পর্কে কুরআন ও হাদীসে অনেক সওয়াব ও ফজিলত বর্ণিত আছে। এই জিকির অতি সহজ ইবাদত। গাফলতির কারণে এই সহজ ইবাদতের আমল ছেড়ে আল্লাহর আদেশ লঙ্ঘন করা এবং নিজ হাতে নিজের লোকসান করা ছাড়া আর কিছু নেই। সব সময় আল্লাহর নাম মুখে উচ্চারণ করা এবং মনে স্মরণ রাখা কোন কষ্টসাধ্য কাজ নয়। জিকিরের মত এত সহজ বা কম কষ্টে বেশি আমল পাওয়া আর কোন ইবাদত নেই। কারণ জিকির করার নির্দিষ্ট কোন সময় নেই। নির্দিষ্ট কোন সংখ্যাও নেই। কেবলামুখী হয়ে বসতে হবে বা জায়নামাজে বসে পড়তে হবে তার কোন ধরা-বাধা নিয়ম নেই। একবার সওয়াবের নিয়ত করে জিকির আরম্ভ করলে যতক্ষণ না অন্য কাজের নিয়ত করা না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত এই জিকিরের সওয়াব পেতে থাকবেন। সংসারের কাজের সময় মনে মনে আল্লাহর নাম নিতে থাকবেন তাহলে কাজও হয়ে যাবে, অন্যদিকে সওয়াবও পেতে থাকবেন। হাদীসে আছে, মানুষ মৃত্যুর পর সবচাইতে বেশি আপসোস করবে জিকিরের জন্য আর কোন ইবাদতের জন্য এত আপসোস করবে না। কারণ কম কষ্টে বেশি সওয়াব পাওয়ার জিকিরের চেয়ে সহজ ইবাদত আর নেই।’ আমরা যখন একা আল্লাহর নাম স্মরণ করি আল্লাহও আমাদের একা একা স্মরণ করতে থাকেন। আর যখন কোন মজলিসে আল্লাহর নাম স্মরণ করি আল্লাহ তার ফেরেশতাদের নিয়ে আমাদের চেয়ে উত্তম মজলিস বানিয়ে আমাদের স্মরণ করতে থাকেন। কুরআন ও হাদীসের বিভিন্ন জায়গায় আল্লাহ জিকিরের গুরুত্বের কথা বলেছেন। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা আমাকে স্মরণ কর আমিও তোমাদের স্মরণ করব’ (সূরা বাকারা)। আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন “প্রকৃত মুমিনের প্রশংসা এমন যে তারা হাঁটতে, বসতে, শুতে আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণ রাখে (সূরা আল ইমরান), অন্য আয়াতে বলেন, ‘হে মানব তুমি তোমার প্রভুকে স্মরণ রাখিও, কাকুতি-মিনতির সঙ্গে ভীত ও সংকোচিত চিত্তে মনে মনে বা উচ্চস্বরে অপেক্ষাকৃত কম আওয়াজে সকালে ও বিকালে তোমরা গাফেলদের শ্রেণিভুক্ত হইও না (সূরা আরাফ)’। জিকির সম্পর্কে অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা ঈমানদারগণের অবস্থা বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন, মসজিদের সঙ্গে এমন অনেক লোক থাকে যারা তাসবীহ পড়তে থাকে, তাকে ক্রয়-বিক্রয় এবং আল্লাহর জিকির হতে নামাজের হক আদায় করে নামাজ পড়া হতে এবং যথাযথ হিসাব করে যাকাত প্রদান করা হতে গাফেল করতে পারে না। (অর্থাত্ সাংসারিক কাজে লিপ্ত থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর জিকির ভুলে না যাওয়া এবং আল্লাহর কোন হুকুমও পরিত্যাগ করে নাই (সূরা নূর) আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ খুব বেশি করে আল্লাহর জিকির কর (সূরা মুনাফিকুন) কুরআনের অন্য আয়াতে আছে ‘সফলকাম হয়েছে ঐ ব্যক্তি যে খারাপ আকীদা এবং খারাপ আখলাক হইতে পবিত্রতা লাভ করেছে এবং স্বীয় প্রভুর নাম স্মরণ করছে এবং নামাজ পড়ছে (সূরা আলা), আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, ‘আপনি আপনার প্রভুর নাম স্মরণ করতে থাকুন এবং অন্যান্য যাবতীয় পার্থিব বন্ধন ছিন্ন করে একমাত্র তার হয়ে যান (সূরা মুযযাম্মিল), আল্লাহ পাক আরও বলেন, ‘আল্লাহকে পেয়েছে এবং আল্লাহর প্রিয় হচ্ছে তারা যারা ঈমান এনেছে এবং আল্লাহর জিকিরে তাদের মনে শান্তি আসে নিশ্চয় জানিও আল্লাহর জিকিরের মধ্যে এমন তাসির নিহীত আছে যে, আল্লাহর জিকিরের দ্বারা মনের মধ্যে শান্তি আসে।
